হরিয়ানার দেড় হাজার কেজির মহিষ আনমোল, দাম দুটি রোলস রয়েসের সমান
টাইম টু টাইম তার খাওয়াদাওয়া। দেখভালের জন্য লোকলস্করও নেহাত কম নেই৷ পান থেকে চুন খসানো সম্ভব নয়৷ তাহলে আর রক্ষে নেই৷ তা এটা কোনও রাজা উজিরের বিষয়ে বলা হচ্ছে। আবার তেমন ভাবলেও দোষের কিছু নেই৷
হরিয়ানার আনমোলের বিষয়ে বলা হচ্ছে৷ আনমোলের ওজন শুনলেই চোখ কপালে তুলতে হয়৷ তার ওজন দেড় হাজার কেজি৷ গা দিয়ে যেন তেল গড়িয়ে পড়ে৷ বিলাসবহুল জীবন যাপনেই কাটে তার। কিন্তু কে এই আনমোল? কী তার পরিচয়?

হরিয়ানার একটি বিশাল মহিষের নাম আনমোল৷ যার ওজন দেড় হাজার কেজি। পুষ্কর মেলা এবং মিরাটে সর্ব-ভারতীয় কৃষক মেলার মতো দেশের কিছু মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি দেখা যায়। নেট দুনিয়াতেও সে বেশ ভাইরাল। আনমোলের দাম শুনলেও ছিটকে যেতে হয়। কারণ এই মহিষের দাম বর্তমান বাজারে ২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুটি
রোলস রয়েসের সমান। ১০ টি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি বা নয়ডা এলাকায় এক ডজন বাড়িও কেনা যাবে এই পরিমাণ মূল্যে।
মহিষটিকে ভারতের পশুপালন শিল্পে গর্বের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। যে মহিষ যত ভালো প্রজাতির ও উন্নত মানের হয়৷ তার বীর্য তত ভালো হয়ে থাকে। আর সেজন্যই দাম বাড়ে।
এই মহিষ তার বিশালকার, চকচকে কাঠামোর জন্য সকলের নজর কাড়ে। কোথাও কোনও মেলাতে নিয়ে গেলে মানুষ ভিড় করে তাকে দেখতে৷
আনমোল হরিয়ানার সিরসা জেলায় থাকে। বয়স আট বছর। রক্ষণাবেক্ষণ এবং ডায়েটে প্রতিদিন দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। দামী শুকনো ফল এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার দেওয়া হয় প্রতিদিন। আনমোলের গায়ে উজ্জ্বলতাও নজর কাড়ে। বাদাম ও সরষের তেলের মিশ্রণে দিনে দুবার তাকে স্নান করানো হয়। আনমোলের মাও ভালো মহিষ ছিল। সেটি দিন প্রায় ২৫ লিটার দুধ দিত।
আনমোলের দৈনিক খাবারের মধ্যে রয়েছে আড়াইশো গ্রাম বাদাম, চার কেজি ডালিম। এছাড়াও আছে ৩০ টি কলা, পাঁচ কেজি দুধ এবং ২০ টি ডিম। এছাড়াও, বৃদ্ধি ও গঠন ধরে রাখার জন্য তেলের কেক, সবুজ পশুখাদ্য, ঘি, সয়াবিন এবং ভুট্টা দেওয়া হয়।
আনমোলের মালিকের নাম গিল। দুজনের সম্পর্কও গভীর৷ আনমোলের বীর্য বাজারে যথেষ্ট চাহিদা আছে৷ প্রতি সপ্তাহে দুবার বীর্য সংগ্রহ করা হয়। এই বীর্যে ৩০০ থেকে ৯০০ গবাদি পশুর প্রযোজন হতে পারে। মালিক গিলের মাসে পাঁচ লক্ষ টাকা আয় হয়ে থাকে।












Click it and Unblock the Notifications