Haryana Election Result 2024: উচ্ছ্বাস বদলাল অভিযোগে, জাঠ ও জাতের অঙ্কই হরিয়ানায় ভাঙল কংগ্রেসের জয়ের স্বপ্ন?
Haryana Assembly Election Result 2024: বুথ ফেরত সমীক্ষায় আভাস মিলেছিল জয়ের। ভোটগণনার প্রথম দিকেও কংগ্রেসের পক্ষেই যাচ্ছিল হরিয়ানার ফলাফল (Congress)। দলের সদর দফতরে শুরু হয় ঢাকঢোল, মিষ্টি বিলি। যদিও বেলা গড়াতেই বদলে গেল ছবিটা। হরিয়ানায় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বিজেপি (BJP)। কংগ্রেসের উচ্ছ্বাস বদলে যায় অভিযোগের পাহাড়ে।
কাটল না ১০ বছরের খরা। হরিয়ানা হাতছাড়া কংগ্রেসের। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে জাঠ ভোট (Jat Community) নিয়ে কংগ্রেসের বারবার হিসেব কষা ভালো চোখে নেননি অনেকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার (Bhupinder Singh Hooda) উপর অগাধ আস্থা ও দলিত নেত্রী কুমারী শৈলজার সঙ্গে তার ঠাণ্ডা লড়াইও কংগ্রেসের প্রতি ক্ষোভ তৈরি করেছিল জনমানসে।

হরিয়ানায় বিজেপির হ্যাটট্রিক রুখতে জাঠ ভোটের সবটাই নিজেদের ঝুলিতে নিতে চেয়েছিল হাত শিবির। এর ফলে জাঠ বাদে অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায় ও দলিত ভোট (Dalit Votes) কংগ্রেসের বিপক্ষে গিয়েছে বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
হরিয়ানার ভোটে প্রচারে শুরু থেকেই দলিতদের কথা ভেবে সামাজিক ন্য়ায় প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছিল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে তার সুফলও পেয়েছিল হাত শিবির। কিন্তু জাঠ নিয়ে জাতপাতের অঙ্কই এবারে কংগ্রেসকে ডুবিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
হরিয়ানার জনসংখ্যার ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ জাঠ অধ্যুষিত। এদিকে রাজ্যে ১৭টি বিধানসভা আসনই তফসিলি সংরক্ষিত। কিন্তু তফসিলিদের বিষয়টি কংগ্রেস ধর্তব্যেই আনেনি বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। দক্ষিণ হরিয়ানায় আহিরওয়াল অধ্যুষিত এলাকাও কংগ্রেসের নজর এড়িয়েছে বলে দাবি। ২০১৪ থেকেই এই এলাকা বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত।
এদিকে জাঠ ব্য়তীত অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। দলিতদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি আদতে সুবিধাজনক হয়েছে বিজেপির পক্ষে। জাতপাতের অঙ্কে পড়ে না থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম লক্ষ্য় করে প্রচার চালিয়ে গিয়েছে বিজেপি। আরএসএসের গ্রামীণ ভোটার সচেতনতা কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির।
তবে শুধু জাতিভেদে টিকিট দেওয়াই নয়, কংগ্রেসের বিপদ বাড়িয়েছে ভূপিন্দর-শৈলজার ঠাণ্ডা লড়াইও। দলের লড়াকু নেত্রী ও দলিত মুখ কুমারী শৈলজা ও গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালাকে কার্যত এড়িয়ে জাঠ মুখদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ভূপিন্দর সিং হুডা।
হুডাকে অগাধ সমর্থন জুগিয়েছিল কংগ্রেসের হাইকমান্ডও। হুডার আস্থাভাজন এমন প্রায় ৭০ জনকে টিকিট দেয় কংগ্রেস। অপরদিকে কুমারী শৈলজা মাত্র ৯টি টিকিট তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের দেন। এরপর প্রচারেও তেমন দেখা যায়নি অভিমানী শৈলজাকে। এমনকি কংগ্রেসের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানেও গরহাজির ছিলেন তিনি।
ভোটের হরিয়ানায় কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিল হাত শিবির। আর তার জেরেই জয়ের স্বপ্ন থেকে আপাতত কংগ্রেসকে সরে আসতে হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications