ধার শোধের পরেও হয়রানির অভিযোগ, পুলিশি সাহায্য না পেয়ে গায়ে আগুন, মৃত একই পরিবারের ৩
ঋণ নিয়ে বারবার হয়রানি অভিযোগ করেও নিস্তার পাননি তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলির শ্রমিক ইসাকিমুথু। তিরুনেলভেলির জেলাশাসকের দফতরের সামনেই পরিবারের সঙ্গে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ওই শ্রমিক।
ঋণ নিয়ে বারবার হয়রানি অভিযোগ করেও নিস্তার পাননি তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলির শ্রমিক ইসাকিমুথু। তিরুনেলভেলির জেলাশাসকের দফতরের সামনেই পরিবারের সঙ্গে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ওই শ্রমিক।

গায়ে আগুন লাগানো ওই শ্রমিক ইসাকিমুথু এবং তাঁর স্ত্রী সুব্বুলক্ষ্মী এবং ছোট দুই কন্যা মাথি সারণ্যা এবং অক্ষয়া ভারানিথাকে তিরুনেলভেলি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইসাকিমুথুর অবস্থা সংকটজনক হলেও, স্ত্রী ও দুই কন্যা মারা যায়।
বেশ কয়েকমাস আগে আচানপুধুর থানার অন্তর্গত কাশিধার্মাম-এর বাসিন্দা ইসাকিমুথু ১.৪৫ লক্ষ টাকা ধার করেছিলেন মহাজন মুথুলক্ষ্মীর কাছ থেকে। উদ্দেশ্য ছিল আত্মীয় কান্নামালকে সাহায্য করা। সুদ এবং আসল সমেত ২.৩৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও, মহাজন মুথুলক্ষ্মী আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ। টাকার দাবি করে ইসাকিমুথুকে বারবার হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ।

হয়রানি বন্ধে জেলাশাসকের দফতরে পুলিশি সাহায্যের আবেদন করেন ইসাকিমুথু। সোমবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ইসাকিমুথুর ভাই গোপীর অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্ত মুথুলক্ষ্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাঁর ভাইকে দাবি মতো টাকা দিতে চাপ দেয়।
ভাই গোপী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেলাশাসকের দফতরে বৈঠকেও যোগ দিতে যান। সেখানে ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল হলে বৈঠক চলাকালীন বাইরে বেরিয়ে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন দেন ইসাকিমুথু।
পুরো পরিবারের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে আসা অন্য আবেদনকারীরা আগুন নেভানো চেষ্টা করেন। যদিও সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। কেননা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের গায়ে আগুন দেওয়ার জন্য প্রায় ৫ লিটার কেরোসিন ইসাকিমুথু এনেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে চারজনকে তিরুনেলভেলি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে অভিযোগকারীর স্ত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে মূল অভিযোগকারীরও। পরে হাসপাতালে যান জেলাশাসক সন্দীপ নানদুরি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। জানা গিয়েছে ইসাকিমুথু প্রায় ৭৫ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ।
পুলিশের বিশেষ দল পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।












Click it and Unblock the Notifications