দলের আসার জায়গা নেই, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে দল ছাড়লেন গুলাম নবী আজাদ
দলের আসার জায়গা নেই, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে দল ছাড়লেন গুলাম নবী আজাদ
শুক্রবার প্রবীণ নেতা গুলাম নবী আজাদ কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ ও অন্যান্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর কয়েকদিন আগেই গুলাম নবী আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি সোনিয়া গান্ধীকে লেখা একটি চিঠিতে কংগ্রেসের পতনের জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেন। চিঠিতে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে কংগ্রেস যে পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছে, সেখান থেকে ফিরে আসার কোনও জায়গা নেই।

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ
কংগ্রেস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলাম নবী আজাদ সোনিয়া গান্ধীকে পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠিতে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে দলের অবনতি হতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার আগে কংগ্রেসে প্রবীণ নেতাদের পরামর্শ নেওয়া হতো। কিন্তু রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে, বিশেষ করে ২০১৩ সালে কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলের ধ্বংস শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি চিঠিতে অভিযোগ করেন, দলের প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে দিয়ে তরুণ নেতাদের সামনের সারিতে আনা হয়। মূলত দালালি করেই এই তরুণ নেতারা কংগ্রেসের সামনেপ সারিতে চলে আসেন। সেই তরুণ কংগ্রেস নেতাদের যোগ্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আমার শবযাত্রা বের করে সম্মানিত হয়েছিলেন নেতারা
সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে গুলাম নবী আজাদ বলেন, দলের সম্পূর্ণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়াটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। দেশের অনেক জায়গ সংগঠনের কোনও পর্যায়ে কোনও নির্বাচন হয়নি। তিনি বলেন, কংগ্রেসের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। কংগ্রেস কখনই আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্রমেই ঠাট্টায় পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জম্মুতে আমাকে নিয়ে যাঁরা ঠাট্টা তামাসা করেছিলেন, দিল্লি পরে তাঁদেরকে সম্মানিত করেছে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সম্মানিত করেছিলেন। সেই সময় কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা জম্মুতে আমার শবযাত্রা বের করেছিলেন। এই ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। তিনি দলে ২৩ জন প্রবীণ নেতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে অনেক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, ওই নেতাদের দোষ ছিল, তাঁরা দলের দুর্বল জায়গাগুলো তুলে ধরেছিলেন।

দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্নে আবেগঘন
সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে তিনি কিছুটা আবেগ প্রবন হয়ে যান। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর যোগদানের সময়কার কংগ্রেসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিল। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের সম্পর্ক নষ্ট করতে তিনিও যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications