পদত্যাগপত্রে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে কী বললেন গুলাম নবী আজাদ
পদত্যাগপত্রে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে কী বললেন গুলাম নবী আজাদ
শুক্রবার কংগ্রেসকে একটা বড় ধাক্কা দিয়ে দল ছাড়েন গুলাম নবী আজাদ। তিনি কংগ্রেস ছাড়ার জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেছেন। সোনিয়া গান্ধীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্রে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তিনি একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের আর শক্তি নিয়ে ফিরে আসার জায়গায় নেই। কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা কর্মী ও ঘনিষ্ঠরা নেন বলে গুলাম নবী আজাদ পদত্যাগ পত্রে জানিয়েছেন।

দলের প্রবীণ নেতাদের সম্মান নেই
সোনিয়া গান্ধীকে লেখা পদত্যাগপত্রের প্রতি ছত্রে গুলাম নবী আজাদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসে প্রবীণ নেতাদের কোনও সম্মান দেওয়া হয় না। দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সরিয়ে সামনের সারিতে নিয়ে আসা হয়েছে বেশ কিছু দালালকে। যাঁরা মূলত সারাক্ষণ রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করে থাকেন। বর্তমানে এই দালালরাই কংগ্রেসকে পরিচালনা করছেন। অনভিজ্ঞ একদল নেতা চলাচ্ছে। অভিজ্ঞ নেতাদের কার্যত পিছনের সারিতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের জন্য দায়ী রাহুল গান্ধী
গুলাম নবী আজাদ জানান, যবে থেকে রাহুল গান্ধী সক্রিয়ভাবে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তবে থেকে কংগ্রেস ধ্বংসের দিকে এগিয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে কংগ্রেসের অবনতি শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ক্রমেই শক্তি হারাতে শুরু করে। তিনি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পরেই বিভিন্ন মহলে রাহুল গান্ধী সমালোচিত হয়েছিলেন। তারপরেই রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে আসেন।

২০১৯ সালের পর দলের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে
গুলাম নবী আজাদ জানান, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পর থেকে কংগ্রেসের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সেই সময় রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের একাধিক কর্মিসভায় দলের প্রবীণ নেতাদের প্রকাশ্যে অপমান করেন। যার ফলে দলের অভ্যন্তরে ফাটল দেখা দেয়। দলের সঙ্গে প্রবীণ নেতাদের দুরত্ব বাড়তে থাকে। সদ্য প্রাক্তন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, 'এই ঘটনা আপনার অজানা নয়। বাধ্য হয়েই আপনাকে দলের হাল ধরতে হয়েছে। গত তিন বছর ধরে আপনি দলের হাল ধরেছেন।' কিন্তু আপনি দায়িত্ব থেকে সরে এলেই দলের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে গুলাম নবী আজাদ মন্তব্য করেছেন।

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বুদ্ধির অভাব
গুলাম নবী আজাদ রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বুদ্ধির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, এর সব থেকে বড় উদাহরণ হল সংবাদমাধ্যমের সামনে সরকারি আদেশ ছিঁড়ে ফেলা। রাহুস গান্ধী সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সরকারি আদেশ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেই আদেশটি কংগ্রেসের কোর গ্রুপে উত্থাপিত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। এই ধরনের শিশুসুলভ আচরণ ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের অনেক কারণের মধ্যে এটি অন্যতম প্রধাব কারণ বলে গুলাম নবী আজাদ উল্লেখ করেন।












Click it and Unblock the Notifications