জন দরদী প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে মানুষ, গুজরাতে বদল হচ্ছে ভোট বিতরণী পার হওয়ার পরিকল্পনা
জনপ্রিয় কোনও পলিসির মাধ্যমে ভোট তুলে নেওয়া সবসময়েই গুজরাত রাজনীতির বড় অংশ। বহু বছর ধরে এই রাজনীতির অঙ্কেতে খেলেই ভোট বিতরণী পার করে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলি। এবারেও কী সেই পরিকল্পনা কাজ করবে? যেখানে নতুন দল আম আদমি পার্টি এসে জনমুখী বিষয় নিয়ে ভোটের প্রচার করছে? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছে প্রশ্ন। কোনটা হবে ভোটের নৌকা পার হওয়ার আসল অঙ্ক?

পুরনো ভাবনা
১৯৯০ সালে বিজেপি কংগ্রেসের ভোটের প্রচারের অন্যতম এবং মহাগুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নর্মদা নদী এবং তার সর্দার সরোবর ড্যাম দিয়ে বয়ে যাওয়া। কারন নর্মদা নদী সবসময়েই গুজরাতের লাইফলাইন। ২০১২ সালে কংগ্রেসের প্রচারের অংশ ছিল 'ঘর নু ঘর' স্কিম। এই স্কিমের মাধ্যমে বলা হয়েছিল যে শহর থেকে গ্রাম প্রত্যেক জায়গার মানুষ সমান ধরণের বাসস্থান পাবেন। আর সেভাবেই ভোট অঙ্ক সাজিয়েছিল গুজরাত কংগ্রেস। এই সময়ে বহু মহিলা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটের আগে এই স্কিমের জন্য নিজেদের দাম নথিভুক্ত করেছিলেন।

নতুন চিন্তা ধারা
তবে এখন আর এসব গল্প দিলে চলবে না। সময় বদলে গিয়েছে। কারণ এখানে চলে এসেছে তৃতীয় শক্তি, আম আদমি পার্টি। তারা খেলা খেলছে সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে। তারা বিনামূল্যের ইলেক্ট্রিসিটি, পড়াশোনা, চাকরি এবং দুর্নীতিহীন গুজরাত গড়ার অঙ্ক নিয়ে খেলছে। এটাও জনপ্রিয় পলিসি তবে এটা হল সম্পূর্ণ অন্যরকম। সাবসিডি বা ছাড়ের রাজনীতি। ফ্রি'তে সরকারের সার্ভিস, যে অঙ্ক নিয়ে আগে কোনও অদিন গুজরাতে খেলা হয়নি সেটা নিয়েই নেমেছে আপ। এটা দিল্লি পাঞ্জাব, হরিয়ানার রাজনীতি। আর সেটা ধরেই খেলছে আপ। এটা কী সেখানকার মানুষ নেবে? অনেকে মনে করছেন আপের এই নীতি অন্য দের পুরনো ভাবনা বদলাতে বাধ্য করবে।
দেখা যাচ্ছেও তাই যে এইটাই এখন গুজরাত ভোটের অঙ্ক হতে চলেছে। বিজেপি প্রচার করছে তাঁদের আগামী দিনের প্রজেক্ট নিয়ে, কী তারা করবেন রাজ্যের স্বার্থে তা নিয়ে প্রচারে তারা বেশি কথা বলছেন। ভালো সরকারের কাজ কী হতে পারে তাও তারা বলছেন। একই পথে হাঁটছে কংগ্রেসও।

কী বলছে সমীক্ষা?
সমীক্ষা বলছে যে এই ধরনের জনমুখী প্রচার মানুষ আশা করছেন। তারা নতুন সরকারের থেকে এমন কিছুই আশা করছেন যা হবে জনমুখী এবং একই সঙ্গে জন দরদী। ছাড়ের রাজনীতি এই মন্দার বাজারে মানুষকে স্বস্তি দেয় তাই অর্ধেকের বেশি মানুষ এই নয়া পন্থার দিকে ঝুঁকে রয়েছে। ঘটনা হল যারা এই পদ্ধতিকে বেশি সমর্থন করছেন তারা কিন্তু সকলেই বিজেপির ভোটার কিন্তু তারা বিশ্বাস করছেব আপের পরিকল্পনায়। দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এর বিপক্ষেও, তারা মনে করছেন এই কাজ অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দেবে, এরাও কিন্তু বিজেপির ভোটার। বলে যেতে পারে প্রচারের নিরিখে এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা এবং তাঁদের চিন্তা ভাবনা।

মূল্য বৃদ্ধির সময়
মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে সেখানে এই পলিসি তাই বেশি আকর্ষণ করছে মানুষকে। আর তাই কংগ্রেস এবং আপকে এক চতুর্থাংশ মানুষ সমর্থন করছেন। রাজনীতিবিদরা বলছেন এই পলিসি শিক্ষার বার্তা দিচ্ছে। এই নীতি সবার জন্য সমান শিক্ষার কথা বলছে। গ্রাম থেকে শহর সবাই একইরকম ভাবে শিক্ষার আলো পাবে। আর মানুষকে অনেকটা আশা দেখাচ্ছে এই ভাবনা। তাই মানুষ সেদিকেই বেশী ঝুঁকছে। প্রবণতা সেই কথাই বলছে।
সংবাদ মাধ্যমের এখ একটা বড় জায়গা রয়েছে এই ভোটের ক্ষেত্রে। করোনা পরবর্তী সময়ে যে পরিমাণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে সেখানে বারবার সংবাদ মাধ্যমও এই বিষয়গুলিকে সামনে এনেছে। ফলে রাজ্যের পুরনো দলগুলিকে তাই তা পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করছে।












Click it and Unblock the Notifications