গুজরাতে বিজেপির ভোট কাটতে মোরবিকাণ্ডই কি হাতিয়ার বিরোধীদের? কোন কোন ইস্যু হবে অস্ত্র
গুজরাতে বিজেপির ভোট কাটতে মোরবিকাণ্ডই কি হািতয়ার বিরোধীদের? কোন কোন ইস্যু হবে অস্ত্র
কাউন্টডাউন শুরু। গুজরাতের বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। ১ এবং ৫ ডিসেম্বর দুই দফায় ভোট হবে গুজরাতে। ৮ তারিখ ভোট গণনা। এরই মাঝে মোরবি বিপর্যয় চাপ বাড়িয়েছে শাসক দলের অন্দরে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে গুজরাতের বিজেপি সরকার। আর এই সুযোগ যে বিরোধীরা হাতছাড়া করবেন না সেটা স্পষ্ট।

গুজরাতে বিধানসভা ভোট
হাতে আর এক মাসই নেই। ভোট ঘোষণা হয়ে গেল গুজরাতে। নির্বাচন কমিশন আজ সাংবাদিক বৈঠক করে গুজরাতে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করেছেন। ১৮২ আসনের বিধানসভায় ২ দফায় ভোট হবে গুজরাতে। হিমাচল প্রদেশেও একই দিনে ভোট। দুই রাজ্যেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা ৮ অক্টোবর। কাজেই হাতে আর বেশি সময় নেই। যদিও আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলি। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই প্রচারের পারদ চড়িয়েছেন।

কোন কোন ইস্যুতে শান
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে অস্ত্রে শান দিতে শুরু করে দিয়েছে তারা। বিজেপির ট্রাম্প কার্ড শুধু মোদীতেই কি কাজ হবে এবার। এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। কারণ এবারে বেশ কয়েকটি ইস্যুতে চাপে রয়েছে গেরুয়া শিবির। তার মধ্যে সাম্প্রতিক কালের মোরবি ব্রিজ দুর্ঘটনা তো রয়েইছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর গুজরাত সফর কালেই ঘটেছে এই ঘটনা। তীর উপরে ব্রিজ দুর্ঘটনায় একের পর েক গাফিলতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মোরবি ব্রিজ ছাড়াও রয়েছে একাধিক ইস্যু। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিলকিস বানো মামলা, বেকারত্ব, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি, বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা।

মোরবি কাণ্ডে চাপে বিজেপি
শেষবেলায় বিরোধীদের হাতে ব্রহ্মাস্ত্র তুলে দিয়েছে মোরবি ব্রিজ দুর্ঘটনা। শতাব্দী প্রাচীন ব্রিজ ভেঙে ১৪২ জনের মৃত্যু। তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মোরবি কাণ্ডে প্রকাশ্যে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে পুরসভার চরম গাফিলতিতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। অদক্ষ কনট্রাক্টরদের দিয়ে ব্রিজ মেরামত করানো হয়েছিল। কোনও কিছু বদলও করা হয়নি ব্রিজের। কোনও রকম টেন্ডার না ডেকেই বরাত দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। একের পর এক গাফিলতি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

বিলকিস বানো মামলা
মোরবি কাণ্ডের কয়েকদিন আগেই বিলকিস বানো মামলা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছিল। বিলকিস বানো মামলায় ধর্ষকদের মুক্তি দিয়েছে গুজরাত সরকার। এই নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছিল। বিলকিস বানোর ধর্ষকদের কেন মুক্তি দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। কাজেই এবার গুজরাতের ভোটে যে বিলকিস বানোর মামলা বিরোধীদের হাতের বড় অস্ত্র তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে এতে বিজেপির হিন্দু ভোটে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

নাগরিকত্ব আইন
ইতিমধ্যেই হিন্দুত্বের কার্ড খেলতে শুরু করে দিয়েছে বিরোধীরা। আম আদমি পার্টির সুপ্রিম অরবিন্দ কেজরিওয়াল টাকায় লক্ষ্মী-গণেশের ছবি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তারপরেই আবার পাল্টা তাস খেলেছে বিজেপিও। গুজরাত সরকার নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তান, আফগানিস্থান, বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications