বৃহৎ অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্যই নোটবন্দির সিদ্ধান্ত, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ কেন্দ্রের

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র হলফনামায় জানিয়েছে, বিমুদ্রাকরণ বা নোটবন্দি দেশের অর্থনৈতিক নীতির সংস্কারের একটি পদক্ষেপ। এর জেরে ভারতে ডিজিট্যাল লেনদেন বেড়েছে। জাল নোটের প্রসার অনেকটা সঙ্কুচিত হয়েছে। আয়কর আগের থেকে বেড়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নোটবন্দি ইস্যুতে একাধিক আবেদনের শুনানি ছিল।

অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্যই নোটবন্দি

অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্যই নোটবন্দি

কেন্দ্রের তরফে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় জানানো হয়েছে, নোটবন্দির সময় পুরনো ৫০০টাকা ও ১,০০০টাকার নোট ৮০ শতাংশের বেশি বাজার দখল করে রেখেছিল। নোটবন্দি নীতি দেশের অর্থনীতিকে প্রসার করতেই নেওয়া হয়েছিল। দেশের অর্থনীতিকে সংস্কারের একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল নোটবন্দি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, নোটবন্দির পর ডিজিটাল লেনদেনের হার বেড়েছে। সংবিধানিক বেঞ্চে কেন্দ্রের হলফ নামায় জানানো হয়, নোটবন্দির কারণে যে দুর্ভোগ হয়েছিল, তা সাময়িক। কিন্তু তার অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূর প্রসারী। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ৮.২ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে ৬.৮ শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হয়েছিল। প্রাক মহামারী সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনেকাংশে নোটবন্দি কারণ।

দেশে প্যানকার্ডের সংখ্যা বেড়েছে

দেশে প্যানকার্ডের সংখ্যা বেড়েছে

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর তীব্র নজর রেখেছিল আয়কর দফতর। উল্লেখযোগ্যভাবে হিসাব বহির্ভুত আয়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। নোটবন্দির পর দেশে প্যানকার্ডের সংখ্যা বেড়েছে। আয়কর সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি জাল নোটের হার কমেছে। কেন্দ্রের তরফে সংবিধানিক বেঞ্চে জানানো হয়, নোটবন্দির সময় অনলাইনে টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও বিধি নিষেধ ছিল না। শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ব্যাঙ্ক থেকে তোলা যেত না। কিন্তু চেক, কার্ড, মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ওপর কোনও বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে ১৯৪৬ ও ১৯৭৮ সালের নোটবন্দির তুলনা করা হয়। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, দেশের কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নোটবন্দির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আদালত যেন তা বিচার বিবেচনা করে দেখে।

ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে সংবিধানিক বেঞ্চে কেন্দ্রের তরফে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রকে সংবিধানিক বেঞ্চের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। নোটবন্দি মামলায় শুনানি স্থগিতের আবেদনে বিভি নাগারথনা বলেন, 'সাধারণত একটি সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি এভাবে স্থগিত করা যায় না। আমরা একবার শুনানি শুরু করার পর আর উঠি না। এই ধরনের অনুরোধ আদালতের জন্য খুব বিব্রতকর।'

নোটবন্দি ইস্যুতে শুনানি

নোটবন্দি ইস্যুতে শুনানি

১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে নোটবন্দিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৫৮টি মামলার শুনানি হয়। বিপক্ষের আইনজীবী জানান, নোটবন্দি হওয়ার পর প্রায় ছয় বছর কেটে গিয়েছে। সেই অর্থে এখন এই মামলার কোনও মূল্য নেই। এই মামলাটি কেতাবি হয়ে গিয়েছে। যদিও সেই দাবি আবেদনকারীদের আইনজীবী নস্যাৎ করে দেন। আবেদনকারীদের আইনজীবী বলেন, নোটবন্দির ফলাফল সদূর প্রসারী। অতীতে মানুষকে নোটবন্দির জেরে ভুগতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও এর প্রভাব রয়েছে। দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পরেই সুপ্রিম কোর্টের সংবিধানিক বেঞ্চ নোটবন্দির প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+