রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলোর জন্য বড় স্বস্তি, এককালীন ২২,০০০ কোটি টাকা অনুদানের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তেল সংস্থাগুলোর জন্য বড় স্বস্তি, এককালীন ২২,০০০ কোটি টাকা অনুদানের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তেল সংস্থাগুলোর জন্য বড় অনুদান বরাদ্দ করল কেন্দ্র। বুধবার কেন্দ্রের তরফে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তেল সংস্থাগুলোর জন্য ২২,০০০ কোটি টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব জুড়ে এলপিজির দাম বাড়ছে। পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংগুলির তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ২২,০০০ কোটি টাকা এককালীন অনুদান দেওয়া হবে। তেলে ক্রমবর্ধমান দামের প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সেই কারণে কেন্দ্রের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনটি তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) কে এককালীন অনুদান দেওয়া হবে। এই তিনটি সংস্থাই গ্রাহকদের কাছে সরকার-নিয়ন্ত্রিত দামে দেশীয় এলপিজি বিক্রি করে। প্রসঙ্গত, জুন ২০২০ থেকে জুন ২০২২ এর মধ্যে এলপিজির আন্তর্জাতিক দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ব্যাপকহারে বাড়লেও দেশের গ্রাহকদের ওপর সেই প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি বলেই কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়েছে। তবে জুন ২০২০ থেকে জুন ২০২২ এর মধ্যে দেশের বাজারে এলপিজির দাম ৭২ শতাংশ বেড়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তিনটি তেল সংস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই কারণেই তেলের দাম এভাবে বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেও রাষ্ট্রায়াত্ত্ব এই তিনটি সংস্থা দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অবিচ্ছিন্ন রেখেছে। সেই কারণেই এই তিনটি সংস্থাকে এককালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২২,০০০ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তিনটি তেল বিপণন সংস্থাকে ২২,০০০ কোটি টাকার এককালীন অনুদান অনুমোদন করেছে। অনুরাগ ঠাকুর বলেন, কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তিনটি সংস্থাকে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের প্রুতিশ্রুতি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। রান্নার গ্যাস বা দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোপণ্যের সরবারহের যাতে কোনও ধরনের অসুবিধা না হয়, সেই কারণে কেন্দ্র সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত মেক ইন ইন্ডিয়া পণ্য সংগ্রহে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি মনে করছেন।
সম্প্রতি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো (ওপেক) সম্মেলন হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা কমাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বৈঠকে নেওয়া হয়। তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকে নেওয়া হয়। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হওয়ার তিন সপ্তাহ পর থেকে প্রভাব বুঝতে পারা যাবে।












Click it and Unblock the Notifications