'স্ত্রীধন' স্ত্রীয়েরই! বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীকে ফেরৎ দিতে হবে বিয়ের সময় পাওয়া সোনা, জানাল কেরল হাইকোর্ট
কেরল হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় কনেকে উপহার হিসেবে দেওয়া সোনার গয়না এবং নগদ অর্থের উপর তাঁর একচেটিয়া অধিকার অর্থাৎ 'স্ত্রীধন' হিসেবে বিবেচিত হবে। এর উপর তাঁর সম্পূর্ণ অধিকার থাকবে। স্বামীর বা শ্বশুরবাড়ির লোকের এর উপর কোনো অধিকার নেই।
বিচারপতি দেবন রামচন্দ্রন এবং বিচারপতি এম.বি. স্নেহলতার ডিভিশন বেঞ্চ এর্নাকুলামের কালামাসেরির এক মহিলার করা একটি আপিলের শুনানিতে এই রায় দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পারিবারিক আদালতের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁকে দেওয়া উপহার ও গয়না ফেরত দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, "দুর্ভাগ্যবশত এমন অনেক ঘটনা সামনে আসে যেখানে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এই মূল্যবান সম্পত্তি অপব্যবহার করে।" আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের হস্তান্তর ব্যক্তিগত এবং প্রায়শই অনানুষ্ঠানিক হওয়ার কারণে, মহিলাদের পক্ষে সম্পত্তির মালিকানা বা অপব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে কোনো কাগজপত্র পেশ করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালতকে সম্ভাব্যতার নীতির উপর নির্ভর করতে হয়।
আবেদনকারী মহিলা জানিয়েছিলেন, ২০১০ সালে তাঁর বিয়েতে তাঁর পরিবার ৬৩ তোলা সোনা এবং ২ তোলা ওজনের একটি সোনার চেন দিয়েছিল। এছাড়াও, আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে আরও ৬ তোলা সোনা উপহার দিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলসূত্র, একটি চুড়ি ও দুটি সাধারণ আংটি ছাড়া বাকি সমস্ত গয়না তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁদের কাছে নিরাপদে রাখার কথা বলে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বামীর দাবি করা অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
মহিলা তাঁর দাবির সমর্থনে কিছু নথি পেশ করেন, যা প্রমাণ করে যে তাঁর বাবা-মায়ের ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা দিয়ে ওই সোনা কেনা হয়েছিল। হাইকোর্ট মামলাটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে তার স্বামীকে ৫৯.৫ তোলা সোনা অথবা তার বর্তমান বাজার মূল্য ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে আদালত জানিয়েছে, মহিলা তাঁর আত্মীয়দের দেওয়া অতিরিক্ত ৬ তোলা সোনার বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি, তাই সেই অংশের দাবি খারিজ করা হয়েছে। একইভাবে, কিছু গৃহস্থালীর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে তাঁর আবেদনও প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়েছে।
আদালত বলেছে, বিয়ের সময় কনেকে দেওয়া সোনা প্রায়শই স্বামী বা তাঁর পরিবার "নিরাপত্তার" অজুহাতে অথবা পারিবারিক প্রথার দোহাই দিয়ে রেখে দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, মহিলারা এই হস্তান্তরের জন্য কোনো লিখিত নথি বা রসিদ পান না এবং গয়নার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা হয়। পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক হয়রানি বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিরোধের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যখন মহিলারা তাদের গয়না ফেরত চাওয়া সত্ত্বেও তা ফেরত পান না।
আদালত আরও বলেছে, "এই ধরনের হস্তান্তরের জন্য মহিলারা খুব কমই লিখিত নথি বা রসিদ পান এবং মহিলার নিজের অলঙ্কারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যেতে পারে। যখন বিরোধ দেখা দেয়, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক হয়রানি বা বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে, মহিলা দাবি করতে পারেন যে তাঁর সোনার অলঙ্কার অপব্যবহার করা হয়েছে বা কখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে, যেহেতু তিনি খুব কমই তাঁকে দেওয়া জিনিসপত্রের তালিকা বা স্বীকৃতি পান, তাই মালিকানা প্রমাণ করা
কঠিন হয়ে পড়ে। আদালতকে এই ব্যবহারিক অসুবিধা বুঝতে হবে এবং ফৌজদারি মামলার মতো কঠোর আইনি প্রমাণের উপর জোর দিতে হবে না।"
এই রায় বিবাহিত মহিলাদের তাঁদের বিয়ের সময় পাওয়া সোনার সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে মহিলারা তাঁদের 'স্ত্রীধন' ফেরত পাওয়ার আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।












Click it and Unblock the Notifications