শেয়ারবাজারে পতনের জের, কতটা চড়ল সোনার দাম?
করোনা ভাইরাসের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা। এরই মাঝে আজ রীতিমত ধস নামার ভঙ্গিতে সেনসেক্স পতন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯০০-র কিছু পয়েন্ট পতনে বন্ধ হয় শেয়ার বাজারের লেনদেন। তবে একটা সময় ২৪০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল শেয়ার বাজার। এই আবহেই কিন্তু বিশ্বের মত ভারতেও হুহু করে বেড়েছে সোনার দাম।

আকাশ ছোঁয়া সোনার দাম
এদিন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (২৮ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ে ০.৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ২৮ গ্রাম সোনার দাম বাড়ে ১,৬৮৬.২২ ডলার। সেই রেশ ধরেই ভারতেও সোনার দাম হয় আকাশ ছোঁয়া। আজ একটা সময় ২৪ ক্যারাট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম দাঁড়ায় ৪৪১৯২ টাকায়। রুপোর দাম প্রতি কেজি ৪৫,৯৮২ টাকা।

কী কারণে বাড়ছে সোনার দাম?
বিশ্ব বাজারে সোনার দাম বাড়ার একটি বড় কারণ তেলের দাম কমে যাওয়া। ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায় পড়ে গিয়ে আজ ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়ায় ৩১.০২ ডলার। এর আগে তেলের দামে এতটা পতন দেখা গিয়েছিল ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি।

করোনা ভাইরাসে প্রভাবে বিশ্ব বাজারে মন্দা
করোনা ভাইরাসে প্রভাবে বিশ্ব বাজারেও মন্দা জারি রয়েছে। ইউরোপীয় এবং মার্কিন স্টক মার্কেটগুলিতে পরপর সূচকে হ্রাস লক্ষ্য করা গিয়েছিল গত সপ্তাহের শেষ লগ্নে। বিশেষজ্ঞদের মত, চিনের বাইরে করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতেই এই পতন হয়েছে। এরই মাঝে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। যার জেরে ইউরোপীয় দেশগুলির অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বিশাল বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রভাব পড়ছে আমেরিকার অর্থনীতিতেও।

রেকর্ড পতন সেনসেক্সে
এদিকে সোমবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ধসের একটি ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেই প্রবণতা যে শয়ার বাজারকে গত ১০ বছরে সব থেকে বড় পতনের সম্মুখীন করবে তা হয়ত কেউ আশঙ্কা করেনি। তবে বিনিয়োগকারীদের ভয় যে কোন মাত্রা ছুঁয়েছে তা আজ বোঝা যায় বেলা বাড়তেই। শেয়ার বাজারে লেনদেন যত বাড়তে থাকে তত বিনিয়োগকারীরা তাঁদের শেয়ার বিক্রি করতে থাকে। আর এর জেরে ২৪০০ পয়েন্ট পতন হয় শেয়ার বাজারে।

ইয়েস ব্যাঙ্ক-করোনা আতঙ্কে কোন পথে অর্থনীতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েস ব্যাঙ্ক ও করোনা ভাইরাসের জেরেই ধাক্কা খেয়ে চলেছে শেয়ার বাজার। এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারই বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন ইয়েস ব্যাঙ্কের আমানতকারীরা। যার জেরে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভরসা হারাতে শুরু করে। এরপর থেকে শুক্রবার থেকেই বড় পতন শুরু হয় বাজারে। শুক্রবার বাজার খুলতেই ১৪০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সূচক। ইয়েস ব্যাঙ্কের বাজার দরে ধসের পাশাপাশি এসবিআই, ইন্দাসইন্দ ব্যাঙ্কেও ১০ শতাংশ করে পতন লক্ষ্য করা যায়।

অর্থনীতিবিদদের মত কী?
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের অর্থনীতি রীতিমতো ঝুঁকির মুখে পড়েছে করোনা ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়ায়৷ পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি এই ভাইরাসের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে চিনের আমদানি রফতানিও। এর জেরে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিস্তর। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহে চিনের উহান শহরে এই মহামারী তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধস নামবে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের৷












Click it and Unblock the Notifications