ভারতের এই শহরে নিষিদ্ধ হল গোবি মাঞ্চুরিয়ান, কিন্তু কেন?
ফুলকপি দিয়ে রসনার শেষ নেই। শীতকালীন সবজিতে ফুলকপির জনপ্রিয়তা অন্যান্য সবজিকে পিছনে ফেলে দিতে পারে অনেক সময়ই। সেই ফুলকপির একটি জিভে জল আনা পদ গোবি মাঞ্চুরিয়ান। আর সেই পদেই এবার নিষেধাজ্ঞা।
ভারতের একটি শহরে এই গোবি মাঞ্চুরিয়ান সরকারি নিষেধাজ্ঞায় পড়ল। এর স্বাদ এখন আর পাবেন না ভোজনপ্রিয়রা৷ কিন্তু কেন? কোথায় হল এই নিষেধাজ্ঞা? টকটকে লাল সসে ফুলকপি মাখামাখি থাকে এই পদে। দেখল জিভে জল অনেক সময়ই ধরে রাখা যায় না। সেই গোবি মাঞ্চুরিয়ান এখন আর মিলবে না! কিন্তু ব্যাপারখানা কী?

জানা যাচ্ছে, এই রান্নায় সিন্থেটিক রঙ ব্যবহার হচ্ছে। আর এই পদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি গোয়ার। সমুদ্র ঘেরা, পর্যটকপ্রিয় গোয়ার শহর মাপুসায় আপাতত এই গোবি নিষিদ্ধ হল। রাস্তার ধারের দোকান, রেস্তোরাঁয় এই পদ এখন রান্না করা যাবে না।
মাপুসা মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা হল, তেমন কিন্তু নয়। ২০২২ সালেও গোবি মাঞ্চুরিয়ানের উপর খাড়া নেমে এসেছিল। শ্রী দামোদর মন্দিরে ভাস্কো সপ্তাহ মেলা চলাকালীন এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) মুরমুগাও মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলকে এই কথা জানিয়েছিল। এফডিএর তরফ থেকে বিভিন্ন দোকানে অভিযানেও নামা হয়েছিল।
গোবি মাঞ্চুরিয়ান একটি ফিউশন ডিশ। এই খাবারকে ঘিরে ভোজনবিলাসীদের মধ্যে উন্মাদনা আছে। গোবি মাঞ্চুরিয়ান এল কীভাবে? তাই নিয়েও চর্চা আছে। জানা যায়, এই রান্নার পদের আসল উৎসস্থল চিকেন মাঞ্চুরিয়ান। মুম্বইয়ের চিনা রন্ধনসম্পর্কীয় পথপ্রদর্শক নেলসন ওয়াং এই রান্নার।
সময়টা ছিল ১৯৭০ সাল। ভারতীয় ক্রিকেট ক্লাবে খাবার পরিবেশন হবে। সেই সময় নেলসন ওয়াং চিকেন মাঞ্চুরিয়ান তৈরি করেছিলেন। সেই খাবার মুখে লেগেছিল উপস্থিত সকলের। রান্নার সুখ্যাতি পেয়েছিলেন ওয়াং। তারপর কালের নিয়মে রান্নাতেও উদ্ভাবন প্রক্রিয়া চালানো হয়।
ভারতীয় খাবারের সংস্কৃতিতে ফুলকপিকে নিয়ে হরেক পদ আদি সময় থেকেই রয়েছে। সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিশতে থাকে বিদেশি রান্না। দেশি, বিদেশি উপকরণের ছ্যাঁকছ্যাঁক শব্দে মিশতে থাকে জ্বলন্ত কড়াইয়ে। একসময় উদ্ভব হয় এই গোবি মাঞ্চুরিয়ানের। বলা ভালো, শুরুর দিন থেকেই এই পদের জনপ্রিয়তা নেহাত কম নয়।












Click it and Unblock the Notifications