Goa Election 2022: ভোটের ৭ দিন আগে অভিষেকের গোয়া সফর বাতিল, উঠছে নানা প্রশ্ন
Goa Election 2022: ভোটের ৭ দিন আগে অভিষেকের গোয়া সফর বাতিল, উঠছে নানা প্রশ্ন
গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন (Goa Election 2022) হতে চলেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার ঠিক একসপ্তাহ আগে সেখানে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বলে দাবি করা তৃণমূলে কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাঁর সফর বাতিল করেছেন। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কবে ফের গোয়া যাবেন, তা স্পষ্ট নয়
ভোটের আগের সোমবার ঠিক কী কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফর বাতিল হল তা জানা যায়নি। তবে অনির্বার্য কারণের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে এদিন তাঁর নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিনের সফর বাতিল হওয়ার পরে আবার কবে সেখানে যাবেন, কিংবা তিনি সেখানে আর যাবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

অভিষেকের উপস্থিতিতেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
গতমাসে গোয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তৃণমূলের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছিল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তিনি দুবার গোয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে থাকতেই তোপ দেগেছিলেন গোয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমকে। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৯ আসন জোটসঙ্গী মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির জন্য রেখে বাকি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের গোয়ার রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সরে দাঁড়িয়েছিলেন লুইজিনহো ফেলেইরো
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রথম ১১ জনের যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে গত সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সেখানকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফেলেইরোর নাম ছিল। এছাড়াও সেই তালিকায় চার্চিল অ্যালেমাওয়ের নাম ছিল। তালিকায় ছিলেন জোস আর ক্যাব্রেল, কিরণ কেন্দালকর, জগদীশ ভাবে, সন্দীপ অর্জুন ভজরকর, গণপৎ গাঁওকর, গিলবার্ট মারিয়ানো জর্সন ফার্নান্ডেজ, সামিল ভলভাইকারের মতো নেতারা। যদিও পরবর্তী সময়ে লুইজিনহো ফেলেইরো নিজের নাম প্রার্থী তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তৃণমূল সেই আসনে নতুন প্রার্থীর নামও জানায়। তবে কেন লুইজিনহো ফেলেইরো নিজের নাম তুলে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে ধন্ধ কাটেনি সাধারণ মানুষের মধ্যে।

তৃণমূলের লড়াই নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
গোয়ার তৃণমূলের লড়াই নিয়ে একদিকে যেমন প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি, অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফেও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ করতেই তৃণমূল গোয়ায় গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস। পাশাপাশি বাংলার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কটাক্ষ করে বলেছিল, পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্যুটকেস নিয়ে তৃণমূল গোয়ায় নেতা কিনতে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোক নিয়ে গিয়ে সেখানে তৃণমূলের প্রচারপত্র বিলির অভিযোগ করে বাংলার শাসক দলকে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা।

আরও যেসব প্রশ্ন উঠছে
এমন একটা সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ার সফর বাতিল করলেন, যে সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। এব্যাপারে অবশ্য তৃণমূলের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে বেশ কিছু দিন আগে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর গোয়া নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তাহলে কি তৃণমূল গোয়ায় যাক সেব্যাপারে মত ছিল না প্রশান্ত কিশোরের? যদিও বিভিন্ন সংস্থার করা জনমত সমীক্ষায় দেখানো হয়েছিল তৃণমূল সেখানে দাঁত পর্যন্ত ফোঁটাতে পারবে না।

অনেক নেতার একসঙ্গে আগ্রহ হারানোয় প্রশ্ন
গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বিভিন্ন দল থেকে বেশ কিছু নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট ঘোষণার পরেও তাঁরা দলত্যাগ করতে শুরু করেন। এঁদের মধ্যে অবশ্যই উল্লেখ করতে হয় অ্যালেক্সিও রেজিনেল্ডোর কথা। তিনি জানুয়ারি মাঝামাঝি সময়ে তৃণমূলে ত্যাগ করেন। তারও কয়েকদিন আগে, গোয়ায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভেদ ছড়ানোর অভিযোগ করে পাঁচ নেতা দল ছেড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লাভো মামলেদার। তাহলে কি নেতাদের দলত্যাগে সেপ্টেম্বর থেকে গোয়ায় কাজ শুরু করা তৃণমূলের নেতারা হতোদ্যম হয়ে পড়লেন, সেই প্রশ্ন উঠছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফর বাতিলে।












Click it and Unblock the Notifications