মমতার উত্থান পরিকল্পনা জাতীয় রাজনীতিতে, ত্রিপুরার পর গোয়া নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
ত্রিপুরার পুরসভা নির্বাচনে প্রাথমিক লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূল। ত্রিপুরার মাটিতে বিরোধী দলের তকমা আদায় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া অভিযান।
ত্রিপুরার পুরসভা নির্বাচনে প্রাথমিক লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূল। ত্রিপুরার মাটিতে বিরোধী দলের তকমা আদায় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া অভিযান। জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান শক্তিশালী করতে গোয়া নির্বাচনকেই পাখির চোখ করতে চলেছে তৃণমূল। মমতা বন্যোনিপাধ্যায় ২০২৪-এর লক্ষ্যে ঘূঁটি সাজাচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ!
যদি গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়, তাহলে তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে তা 'লঞ্চিং প্যাড' হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে। কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে শুরু করবে তারা। নিজেদেরকে নামের পাশে প্রধান বিরোধী দলের ট্যাগ যেমন ব্যবহা করতে পারবে তৃণমূল, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবেও তুলে ধরা যাবে।

জাতীয় দল হিসেবে উন্নীত করতেই তৃণমূলের এই পরিকল্পনা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস উত্তর ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলিতে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনার পাশাপাশি তারা এমন পরিকল্পনাও করেছে যে, উত্তর ভারত-সহ অন্যান্য রাজ্যেও বিস্তারলাভ করতে হবে। জাতীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলার পাশাপাশি তৃণমূলকে জাতীয় দল হিসেবে উন্নীত করতেই এই পরিকল্পনা।

উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি পশ্চিম ভারতে বিস্তার
তৃণমূল ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি পশ্চিম ভারতে বিস্তারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছেন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। তাঁর পরিকল্পনামতোই ত্রিপুরা পর গোয়ায় পা রেখেছে তৃণমূল। তৃণমূল এখানে কংগ্রেসেকে ভেঙে সংগঠন বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন সিএম লুইজিনহো ফেলেইরো, টেনিস খেলোয়াড় লিয়েন্ডার পেজ, অভিনেতা নাফিসা আলি-সহ অনেক প্রভাবশালী মুখকে অন্তর্ভুক্ত করেছে দলে। লক্ষ্য কংগ্রেসের ভোট কেটে নিজেদেরকে প্রধান বিরোধী দলে রূপান্তরিত করা। আর এই লক্ষ্য এতটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে যে বিজেপির জয় তাঁদের কাছে মুখ্য নয়। অর্থাৎ বিজেপি জেতে জিতুক, কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠাই তাদের পয়লা নম্বর লক্ষ্য।

রাজ্যে রাজ্যে বেড়ে ওঠার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল
পশ্চিম ভারতের পাশাপাশে দক্ষিণ ভারতের দিকেও তৃণমূলের নজর রয়েছে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রথম ফোকাস কর্ণাটকে। এখানে কিছু কংগ্রেস নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে দলে। এছাড়াও ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে নিয়ে পিকের পরিকল্পনা রয়েছে। সুতরাং, কংগ্রেসের প্রভাবশালী মুখকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে রাজ্যে রাজ্যে বেড়ে ওঠার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল। উত্তর ভারতের অনেক রাজ্যেও নজর রয়েছে তৃণমূলের।

তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল পিকের সুপ্ত পরিকল্পনা
সূত্রের খবর, প্রশান্ত কিশোর কিছু কংগ্রেস নেতার রোষানলে পড়ার পর আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টিকে কেবল একটি প্রাচীন দলে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও পিকের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিবৃতি আসেনি। তবু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মনে করছেন, তৃণমূলকে প্রধান বিরোধী দলে রূপান্তরিত করার প্রয়াসের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এমনই কোনও কারণ।












Click it and Unblock the Notifications