গুজরাতে পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে 'গীতা', জানালেন শিক্ষামন্ত্রী জিতু ভাঘানি
গুজরাতে পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে 'গীতা', জানালেন শিক্ষামন্ত্রী জিতু ভাঘানি
হাজার ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ভারতের অন্যতম অমূল্য সম্পদ হল মহাকাব্য মহাভারত। একে শুধুই যে এক মহাকাব্য বললে এর মহত্ব, গুরুত্ব, বর্ণনা, বিশ্লেষণ শেষ হয়ে যায় তা নয়। বরং এই মহাকাব্য নিয়ে চিরাচরিত প্রবাদবাক্য, 'জাহা নেই ভারতে তাহা নেই ভারতে' যেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যি হয় ভারতের প্রীতিটি চর্চায়। আর সেখানেই বর্ণিত শ্রী কৃষ্ণের বাণী শ্রেণীবদ্ধ আছে যে গ্রন্থে, তা 'গীতা' নামে পরিচিত। গীতা আমাদের জাতীয় গ্রন্থও বটে। আর এবার গীতা এবার স্থান পেতে চলেছে পাঠ্য পুস্তকে।

পাঠ্য পুস্তকে গীতা
গুজরাত সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ঘোষণা করা হয়েছে যে ভাগবদ গীতা ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেই রাজ্য জুড়ে ৬ থেকে ১২ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল পাঠ্যক্রমের অংশ হবে। গুজরাতের শিক্ষামন্ত্রী জিতু ভাঘানি শিক্ষা বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার সময় বিধানসভায় এই ঘোষণা করেছেন।

'মা ফলেসু কদাচনম'
গীতায় বর্ণিত আছে সব সময় নিজের কাজ করে যাওয়াই কর্তব্য, ফলের চিন্তা ছাড়া। আর স্কুল পাঠ্যক্রমে ভগবদ্গীতায় নিহিত মূল্যবোধ ও নীতিগুলি প্রবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত বলা হয়েছে যে কেন্দ্র দ্বারা উন্মোচিত নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই সকল নীতি, তাই ভারতের জাতীয় গ্রন্থকে যাতে সকল পড়ুয়ারা আরও ভালো করে জানতে বুঝতে ও শিখতে পারে সেই জন্যই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি গীতায় বর্ণিত প্রতিটি বাণী বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যা আধুনিক এবং প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন , ঐতিহ্য এবং জ্ঞান ব্যবস্থার প্রবর্তনের পক্ষে সমর্থন করে। আর গীতা পড়ে ছাত্র ছাত্রীরা ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য গর্ববোধ করবে বলে আশা গুজরাতের শিক্ষামন্ত্রীর।

শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত
বিধানসভায় প্রস্তাব শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, গুজরাতের শিক্ষামন্ত্রী জিতু ভাঘানি জানিয়েছেন, পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ধর্মআবলম্বী মানুষই প্রাচীন সনাতন ধর্মগ্রন্থ গীতায় বর্ণিত নৈতিক মূল্যবোধ এবং নীতিগুলিকে বিভিন্ন ভাবে নিজেদের জীবনচর্চার মূল্যবোধ হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভারতের নতুন প্রজন্ম অনেকটাই অজ্ঞাত দেশের এই মহান গ্রন্থ সম্পর্কে। আর তাই পড়ুয়াদের সেই সকল বাণী জানানোর জন্যই এই পদক্ষেপ গুজরাত সরকারের। "আমরা ৬ থেকে ১২ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল পাঠ্যক্রমে ভগবদ্গীতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের জন্য গীতা সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে চালু করা হবে।"এমনটাই জানিয়েছেন সে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।

উচ্চশিক্ষায় গীতা
নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত, উচ্চশিক্ষায় এটি প্রথম ভাষার পাঠ্যবইয়ে গল্প বলার আকারে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন জিতু ভাঘানি। পাশাপাশি স্কুলগুলি এই গ্রন্থ্যের উপর ভিত্তি করে নানা রকমের ক্রিয়াকলাপ যেমন প্রার্থনা, শ্লোক পাঠ, বোধগম্যতা, নাটক, কুইজ, চিত্রাঙ্কন এবং বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে, তিনি বলেছিলেন। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যে বই এর পাশাপাশি অডিও-ভিডিও সিডির মতো করে অধ্যয়নের উপাদানগুলি গুজরাত সরকার স্কুলগুলিতে সরবরাহ করবে।












Click it and Unblock the Notifications