ভবিষ্যৎ গড়তে মহাকুম্ভ থেকেই মেলে অনুপ্রেরণা, লিখলেন আদানি

কুম্ভ মেলার গুরুত্ব অপরিসীম! বিশেষ করে ভিড়ের নিরিখে এই মেলার কোনও কিছুর সঙ্গেই তুলনা হয় না। কোম্পানি হিসাবে নয়, বিশাল এই আয়োজন এবং কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এবার গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন খোদ আদানি নিজেই। আর সেটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন এই শিল্পপতি।

আর সেখানে তিনি বলছেন, যতবারই বিশাল এই কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় আসছে ততবারই মনে হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তৈরি করেছিলেন এয়ারপোর্ট, বন্দর। আর আমি এই নির্মাণকে আধ্যাত্মিক নির্মাণ বলে মনে করি। এই শক্তির জন্য এত বছর ধরে আমাদের সভ্যতা টিকে আছে।

gautam adani

  • অনেক গভীর বিষয় রয়েছে

গৌতম আদানি লিখছেন, হার্ভাড বিজনেস স্কুলে যখন কুম্ভ মেলার বিষয় জেনেছি, সেই সময় এর ব্যাপকতায় অবাকই হয়েছিলাম। কিন্তু ভারতীয় হিসাবে যখন দেখছি এর গভীরতা অনেক। এটা বিশ্বের সবথেকে সফল পপ-আপ মেগাসিটি শুধুমাত্র সংখ্যার বিষয় নয়। এটা একটা চিরন্তন ব্যবস্থা, যা আদানি গ্রুপ মেনে চলে বলে উল্লেখ শিল্পপতির।

প্রত্যেক ১২ বছর অন্তর নদীর ধারে নিউ ইয়র্কের থেকেও বড় একটা অস্থায়ী শহর যে তৈরি করা হয়, তা মোটেই সহজ নয় তা শিল্পপতির লেখনিতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, পুরো এই কর্মকাণ্ড করতে না কোনও বোর্ড মিটিং, না কোনও পাওয়ার পয়েন্ট প্রজেক্টের প্রয়োজন নয়। এমনকি কোনও ভেঞ্চার ক্যাপিটল নেই। আছে শুধুমাত্র দীর্ঘ সময় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ভারতীয় জুগাড়। যা সবথেকে শুদ্ধ বলেও উল্লেখ করছেন গৌতম আদানি।

  • তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে কুম্ভ

আদানি তাঁর লেখনিতে তিনটি স্তম্ভের উল্লেখ করেছেন। যার উপর ভিত্তি করে এই মেলা বলে উল্লেখ। বলছেন,

1. আকার দিয়ে বিচার করলে চলবে না

আদানি বলছেন, বিশাল এই কর্মকাণ্ডকে আকার দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এর প্রভাবটাও ভাবতে হবে। তাঁর কথায়, সমপর্ন এবং সেবার কথা ভেবে যখন ২০ কোটি মানুষ সংগঠিত হন, তখন সেটা শুধুমাত্র একটা আয়োজন থাকে না, আধ্যাত্মিক সঙ্গম তৈরি হয় বলে উল্লেখ। আদানির কথায় এটাই হল, "spiritual economies of scale." যত বড় হবে ততই আরও বেশি করে সুদৃঢ় এবং আরও অভিজ্ঞ হবে।

2. 'বহু আগে থেকেই অটুট থাকার ধারণা'

অর্থনীতি নিয়ে সমাজ যখন ততটাও তৎপর হয়নি, তার আগে থেকেই কুম্ভ মেলায় সার্কুলার ইকনমি দেখা যায়। অর্থাৎ এই মেলা থেকেই হয় ব্যবসা। শিল্পপতির কথায়, নদী কেবল জলের স্রোতই নয়, জীবনের প্রবাহও বটে। এই নদীই লাখও মানুষকে তার কাছে টেনে আনে, কুম্ভের পর ফের নিজের অবস্থায় ফিরে যায়। বারবার মানুষ ছুটে আসেন এখানে। নিজের পাপস্খলনের চেষ্টায়। আধুনিক ব্যবস্থায় এর থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলেও মন্তব্য গৌতম আদানির। এই পৃথিবী থেকে শুধুমাত্র কী পেলাম তা নয়, কী দিতে পারলাম তাও ভাবার বিষয় বলছেন তিনি।

3. পরিষেবার মাধ্যমেই নেতৃত্ব

শুধুমাত্র নির্দেশ দেওয়াটাই আসল নেতৃত্ব দেওয়া নয়, সবাইকে নিয়ে চলতেও জানতে হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন গৌতম আদানি। বিভিন্ন আখড়া, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মিলেমিশে কাজ করে। এখানে কেউ কারোর বস নয়। এখান থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। একজন নেতা কোনও নির্দেশ কিংবা আদেশ দেওয়া নয়, একে অপরের সঙ্গে জোট বেঁধে এগোনোর পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়।

শিল্পপতির কথায়, 'সেবা সাধনা, সেবাই প্রার্থনা এবং সেবাই পরমাত্মা'

বিশ্ব বাণিজ্যকে কুম্ভ যা শেখায়

১০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। এক্ষেত্রেও কুম্ভমেলার একটা বড় ভূমিকার কথা বলছেন গৌতম আদানি। এক্ষেত্রে তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন।

1. সবাইকে নিয়ে চলা এবং বৃদ্ধি

মেলায় সবার আমন্ত্রণ ছিল। সাধুরা তো ছিলেনই, বিদেশি পর্যটক থেকে শুরু করে সংস্থার সিইও'রাও সাক্ষী হয়েছেন মহান এই কর্মযজ্ঞে। আর এটা আদানির কথায়, "Growth with Goodness."

2. আধ্যাত্মিক প্রযুক্তি মেলবন্ধন

আদানি লিখছেন, আমরা সবাই ডিজিটাল বিপ্লব নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু আধ্যত্মিক প্রযুক্তির স্বাদ পাওয়া যায়। মানব চেতনা জাগ্রত হওয়ার বড় জায়গা। শুধু তাই নয়, যখন বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক বেশি মানসিক অস্থিরতা ভুগছেন সেই সময় এই কুম্ভমেলা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। আদানির কথায়, মানসিক শান্তি পাওয়ার এটাই বড় উপায়। !

3. সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস

মহাকুম্ভ হল অকৃত্রিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কোনও মিউজিয়ামে বন্দি নয়, এই ঐতিহ্য একেবারে জীবন্ত, যা আধুনিকতাকেও গ্রহণ করেছে বলে ব্যাখ্যা আদানির।

প্রাচীন সভ্যতার উপরেই দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ

আদানি লিখছেন, ''আমি যখই আমাদের বন্দর বা সোলার ফার্মের মধ্যে দিয়ে ঘুরি, তখন আমি কুম্ভ থেকে পাওয়া শিক্ষার প্রতিফলন দেখতে পাই। আমাদের প্রাচীন সভ্যতা শুধুই সৌধ তৈরি করেনি। একটা গোটা সিস্টেম তৈরি করেছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন ধারণ করছে। আর সেই সিস্টেম আধুনিক সভ্যতার কথা বলে। যা থেকে শেখা যায়, শুধু নির্মাণ করলেই হয় না''। একটা ইকো সিস্টেম তৈরি করতে হয় বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখ আদানির।

তাঁর কথায়, অন্যদিকে ভারত যখন অর্থনীতি আর সেনার শক্তিতে লড়াই করছে, তখন কুম্ভ হল ভারতের সেই সফ্ট পাওয়ার, যা অন্য কারও নেই। একেই বলে, বসুন্ধরা কুট্টুম্বকম।

ভারত যখন গ্লোবাল সুপার পাওয়ার হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, তখন আদানি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দেশের শক্তি শুধুমাত্র কী গড়ে উঠছে, তার ওপর নির্ভর করে না, কী সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে। ভারত এমন এক সভ্যতা তৈরি করেছে, যা বছরের পর বছর ধরে আদৰ্শ থেকে সরে আসেনি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+