গ্যাস লিক থেকে ক্ষতিপূরণ, বিশাখাপত্তনমে সারাদিন কী কী ঘটল
গ্যাস লিক থেকে ক্ষতিপূরণ, বিশাখাপত্তনমে সারাদিন কী কী ঘটল
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে বৃহস্পতিবার সকালে একটি রাসায়নিক প্লান্টে গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনা ঘটে। এবং যার ফলে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং কয়েকশো লোক গুরুতর অসুস্থ। এর মধ্যে ২৫-৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থতার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, সারা গায়ে চুলকানি, চোখে জ্বালা ইত্যাদি অনুভূত হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার তুলনা করা হচ্ছে। সেখানেও গ্যাস লিক করে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।

এদিন সকালে জানা যায় এলজি পলিমার প্লান্ট যেটি গোপালপতনমে অবস্থিত, সেখানে গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬১ সালে হিন্দুস্তান পলিমার নামে সংস্থাটি কাজ শুরু করে। পরে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়ে ও নাম বদলে বর্তমানে নাম ছিল এলজি পলিমার। এখানে মূলত পলিস্টাইরিন ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্লাস্টিক যৌগ তৈরি হতো। আধিকারিক জানিয়েছেন এখানে আঠারোশো টন স্টাইরিন মজুত ছিল।
বড় ট্যাঙ্কগুলিতে লিক হওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এবং সারাদেশে করোনা ভাইরাসের যে পরিস্থিতি চলছে সেটাকে ছাপিয়ে এই ঘটনা সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। যদিও এই মুহূর্তে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আধিকারিকরা জানান সকালবেলা এই গ্যাস পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই মুহূর্তে ভয়ের কারণ না থাকলেও গোটা এলাকা জুড়ে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে বাতাসে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। এই গ্যাস বিষাক্ত নয়। তবে বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে অবশ্যই ক্ষতি করতে পারে।
গ্যাস লিক থেকে যারা অসুস্থ হয়েছেন তার মধ্যে শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত কুড়ি জনকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছে। আড়াইশো বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই গ্যাস লিক এর পর সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে শুধু মানুষ নয় ওই এলাকার ও আশেপাশের এলাকায় পোষ্য, গবাদি পশু এবং অনেক পাখি মারা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রাম ফাঁকা করে দিতে হয়েছে। অনেকেরই শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে অথবা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকার একসঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা চালিয়েছে। যতভাবে রাজ্যকে সাহায্য করা সম্ভব কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications