গরুড় পাখির মতো করে হাওয়ার ভেসে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে পালিত হয় 'গরুড়ান থুকাম' উৎসব! ঘটে হাড়হিম করা কাণ্ড
গরুড় পাখির মতো করে হাওয়ার ভেসে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে পালিত হয় 'গরুড়ান থুকাম' উৎসব! ঘটে হাড়হিম করা কাণ্ড
বাংলার বিভিন্ন স্থানীয় জায়গায় কাঁটা ঝাঁপ বা মরণ ঝাঁপের মতো ঘটনা বহু মেলায় দেখা যেত করোনার আগের পরিস্থিতিতে। বহু প্রসিদ্ধভাবে গ্রাম বাংলার বুকে অদ্ভু ধরনের নানান উৎসব পালিত হতে দেখা যায় । তবে জানেন কি সুদূর কেরলেও এমন ঘটনা ঘটে? তবে কাঁটা ঝাঁপ থেকে কিছুটা আলাদা ধরনের ঘটনা ঘটে যায়। যে উৎসবে এমন মর্মান্তিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন মানুষ, সেই উৎসবের নাম 'গরুড়ান থুকাম'। কেমনভাবে পালিত হয় এই উৎসব? কী কী ঘটে যায় এমন উৎসবের সঙ্গে?

'গরুড়ান থুকাম' আসলে কী?
কেরলের বিভিন্ন কালী মন্দিরে এমন উৎসব প্রচলিত রয়েছে। মূলত, শাস্ত্র বর্ণিত এক ঘটনার প্রেক্ষিতেই এমন উৎসব পালিত হয়। শাস্ত্র মতে এক পৌরাণিক কাহিনিতে বর্ণিত রয়েছে যে , একবার দেবী কালী প্রবল সংহার মূর্তি ধারণ করেন। খিদের জ্বালায় এমন মূর্তি দেবী ধারণ করতেই ত্রস্ত হয়ে পড়ে দেবকূল। এমন সময় কালীর খিদে, তৃষ্ণা মিটিয়ে দিতে দেবাতারা গড়ুর পাখিকে দেবীর কাছে পাঠান। এরপর গড়ুর পাখির রক্তের ফোঁটায় তৃষ্ণা মেটে দেবীর। এমনই কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। আর সেই ঘটনাকে মন্দিরের আঙ্গনে প্রতিস্থাপিত করা হয় কেরলের 'গড়ুড়া থুকাম' উৎসবে।

মধ্য কেরলের উৎসবে হাড়হিম করা ঘটনা
শোনা যায় কেরলের মধ্যভাগের বিভিন্ন কালী মন্দিরে এই গড়ুর ও কালীর ঘটনাকে প্রতিস্থাপিত করা হয় এক বিশেষে সাংস্কৃতিক পরম্পরা মেনে নাচের মাধ্যমে। এরপর যাঁরা গড়ুর সাজেন তাঁদের, একটি হুকে আটকে সারা শহরে ঘুরিয়ে দেখানো হয়। এই ঘটনার জন্য গরুর গাড়িতে নিয়ে সারা শহরে শোভা যাত্রা করে এই তপস্বী ব্যক্তিদের ওইভাবে হুকের ওপর ঝুলিয়ে হাওয়ায় ভাসানোর মতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। মূলত, গড়ুর যেভাবে উড়ে আসে হাওয়ায় ভেসে, একেবারে সেইভাবে হাত ছড়িয়ে দেহটিকে শুধু হুকের সঙ্গে বেঁধে ঝুলে থাকার চ্যালেঞ্জ থাকে গরুড়ান উৎসবে।

প্রস্তুতি চালাতে হয় বহুদিন ধরেই
এমন ভাবে বহুক্ষণ ধরে ঝুলে থাকা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এমন চ্যালেঞ্জকে মেনে নিতে বহুদিনের অধ্যাবস্যায় প্রয়োজন। তার জন্যই বহুদিন ধরে আলাদা রকমের খাদ্যাভ্যাস পালন করতে হয়, যাঁরা এই উৎসবে অংশ নেন, তাঁদের। উৎসবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ প্রতিবছর অংশ নেন। এমনভাবে আত্মত্যাগ করে যন্ত্রণাকে উপভোগ করাকে ঈশ্বরতুষ্টির নামান্তর বলে মনে করেন কেরলের স্থানীয়রা।

কবে পালিত হয় এই উৎসব?
কেরলে মীনা ভরানি উৎসবের সময় গরুড়ান থুকাম পালিত হয়। কেরলের থিরুভাঞ্চুরের কোট্টায়ামে এমন উৎসবকে স্বচক্ষে দেখা যায়। মীনা ভরানি উৎসব বা কুম্ভ ভরানি উৎসব মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে দেখা যায়। কোট্টায়ামের ইলাম কাভু দেবী মন্দিরে দেখা যায়












Click it and Unblock the Notifications