সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গেমিং! ডিজিটাল নেশায় বাড়ছে ডিপ্রেশন, ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ, কী বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা?
ভারতের ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬, ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়েছে। জানানো হয়েছে যে, স্মার্টফোন, সমাজ মাধ্যম, অনলাইন গেমিং আর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে দেশের যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যে, কাজের উৎপাদনশীলতায় এবং ভবিষ্যৎ রোজগারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গত এক দশকে ভারতবর্ষে ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার চোখে পড়ার মতো। সস্তা ইন্টারনেট, প্রায় সমস্ত মানুষের হাতেই স্মার্টফোন এবং 5G পরিষেবার ফলে ২০১৪ সালে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল প্রায় ২৫ কোটি, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ কোটিতে। এখন দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি জাতীয় আয়ের প্রায় ১১.৭৪ শতাংশ, যা খুব তাড়াতাড়িই ১৩ শতাংশ ছাড়াতে পারে।
সমীক্ষা অনুসারে, আজ দেশের ৮৫ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে অন্তত একটি করে স্মার্টফোন রয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি সমস্ত কিছুই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। EY-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতীয়রা মোট মিলিয়ে প্রায় ১.১ লাখ কোটি ঘণ্টা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সময় কাটিয়েছেন।
ইকোনমিক সার্ভে-তে ডিজিটাল আসক্তিকে বলা হয়েছে যে, এটি এমন এক অভ্যাস, যেখানে মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতিরিক্তভাবে ডিজিটাল ডিভাইস অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ে। যা মানসিক চাপ এবং স্বাভাবিক জীবনে নানারকমের সমস্যা তৈরি করে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া, আয়ের পরিমাণ হ্রাস এবং চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়া।
সমীক্ষা অনুসারে, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং সাইবার বুলিংয়ের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি করে পড়তে দেখা যাচ্ছে। অনলাইন গেমিংয়ের সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, রাগ, সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং মানসিক অবসাদ জড়িয়ে আছে। আবার অনলাইন জুয়া অথবা রিয়েল মানি গেমিংয়ের কারণে আর্থিক চাপ, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার চিন্তার মতো গুরুতর সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। এমনকি অতিরিক্ত সিরিজ দেখা অথবা শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাসেও ঘুমের সমস্যা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপও ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
তবে সমীক্ষা এটাও জানিয়েছে যে, দেশে ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত জাতীয় স্তরের কোনও তথ্য নেই। যার ফলে সঠিক পরিকল্পনা করা অনেকটাই কঠিন হচ্ছে। আসা করা হচ্ছে যে, আসন্ন দ্বিতীয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা থেকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যম ব্যবহার করার জন্য বয়সভিত্তিক নিয়ম, গেমিং সময়ের সীমা এবং স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ভারতের জন্য সমীক্ষার পরামর্শ একেবারে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং ভারসাম্য রক্ষা করা।
ইকোনমিক সার্ভে বলছে যে, স্কুলে ডিজিটাল ওয়েলনেস নিয়ে পড়াশোনা, বাড়ি এবং অফিসে কিছু সময় ডিভাইস ছাড়া থাকা, অভিভাবকদের সচেতন করা, প্ল্যাটফর্মগুলিতে বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কাউন্সেলিং পরিষেবা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল ব্যবহার এড়ানো সম্ভব না হলেও, সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলাই হল ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্য এবং কাজের দক্ষতা রক্ষার চাবিকাঠি।












Click it and Unblock the Notifications