‘আম্বেদকরকে অবমাননা’ থেকে ‘সংবিধানকে পকেটে রাখা’, নানা বিষয় নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানালেন মোদী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বি. আর. আম্বেদকরকে উপেক্ষা করার অভিযোগ এনে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যসভা থেকে। জবাবী ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন যে, "কংগ্রেস কখনও আম্বেদকরকে যোগ্য মনে করেনি" এবং তারা তাঁকে রাজ্যসভায় পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করেছিল।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "কংগ্রেস বি. আর. আম্বেদকরকে ঘৃণা করত এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিল। দলটি আম্বেদকরকে দুবার পরাজিত করেছিল, কারণ তারা কখনও তাঁকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি। বাবাসাহেবের কথায় বারবার রেগে যেত কংগ্রেস। কখনও বাবাসাহেবকে সম্মান দেয়নি কংগ্রেস। এমনকি কখনও বাবাসাহেবকে ভারতরত্নের যোগ্য বলে মনেও করা হয়নি। এখন এত বছর পর কংগ্রেসকে বাধ্যতামূলক 'জয় ভীম' বলতে হচ্ছে"।

তিনি আরও বলেন, "আজ, আমরা 'পিএম মুদ্রা প্রকল্পের' মাধ্যমে বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। তিনি যেমন ভারত গড়তে চেয়েছিলেন, তেমন ভারত আজ আমরা গড়ছি। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ভারতের অন্যতম উন্নতির কাঠামো দেশের কৃষিকাজ। আজ আমরা সেই কৃষিকাজের কথা ভেবে একাধিক বদল এনেছি"।
এদিন কার্যত বিজেপি কংগ্রেসকে আম্বেদকরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাংকে এর প্রভাব ফেললো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে দেশের জরুরী অবস্থা নিয়েও কংগ্রেসের সেই সময়ের 'সংবিধানকে পকেটে রাখার নীতি'ও এদিন ভরা কক্ষে প্রকাশ্যে আনেন মোদী।
মোদীর কথায়, "দেশ জরুরি অবস্থার সাক্ষী ছিল। কিন্তু সেই সময় কংগ্রেসের ক্ষমতার লোভে সংবিধানের চেতনা পদদলিত করা হয়েছিল। জরুরী অবস্থার জন্যে সেই সময় একজন বিখ্যাত অভিনেতা দেব আনন্দ জিকে জরুরি অবস্থার পক্ষে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতা তা করতে অস্বীকার করেন। আর সেই কারণেই দূরদর্শনে দেব আনন্দ জি-র সমস্ত ছবি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল"।
এখানেই না থেমে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "এই যারা সংবিধানের কথা বলেন, তারা বছরের পর বছর ধরে সংবিধানকে তাদের পকেটে রেখে এসেছেন। কিশোর কুমারজি কংগ্রেসের জন্য একটি গান গাইতে অস্বীকার করেছিলেন এবং এই কারণে, আকাশবাণীতে তার সমস্ত গান সেই সময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমি জরুরি অবস্থার সেই দিনগুলি ভুলতে পারি না। আমার মনে হয় সেই ছবিগুলি এখনও পাওয়া যায়"। এদিন কার্যত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন প্রধানমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications