বাসন্তী পোলাও থেকে জোহা চালের ভাত! বন্দে ভারত স্লিপারে মিলবে আঞ্চলিক খাবারের স্বাদ, মেনুতে আর কী কী? জেনে নিন
ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবার শুধুমাত্র রাতের আরামদায়ক যাত্রার জন্যই নয়, বরং খাবারের জন্যও আলাদা ভাবে নজর কাড়ছে। হাওড়া থেকে কামাখ্যা রুটে চলা এই নতুন পরিষেবায় যাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বিশেষ আঞ্চলিক মেনু। যেখানে একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে বাংলা এবং অসমের ঘরোয়া স্বাদ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনের পর থেকেই এই ট্রেন ঘিরে সবার মধ্যে আগ্রহ একেবারে তুঙ্গে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি যাত্রাপথে খাবারের মান এবং স্বাদ যেন আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়, সেই দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।
খাবারের এই মেনুটি আইআরসিটিসির সহযোগিতায় গুয়াহাটির মেফেয়ার স্প্রিং ভ্যালি রিসর্ট (Mayfair Spring Valley Resort) তৈরি করেছে। খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে মরসুমের উপকরণ, হালকা রান্না এবং নিরামিষ বিকল্প। দীর্ঘ রাতের সফরে যাতে কোনও যাত্রীর খাবার ভারী না লাগে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ট্রেনে যাত্রা করলে প্লেটে পাওয়া যাবে বাঙালি রান্নার চেনা অনেকরকমের পদ। যেমন বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল, মুগ ডাল, ছানার নানা পদ এবং আরও অনেকরকমের বিশেষ রান্না। সেই সমস্ত খাবারে মশলার ঝাঁজ কম, স্বাদে ঘরোয়া এবং রাতের ট্রেনযাত্রার জন্য একেবারে মানানসই।
বাঙালি খাবারের পাশাপাশি অসমের খাবারের স্বাদও জায়গা পেয়েছে এই বিশেষ মেনুতে। যাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন জোহা চালের ভাত, মাটি মহর ডাল, মসুর ডাল এবং মরসুমি সবজির ভাজি। স্থানীয় উপকরণ এবং হালকা স্বাদের ওপরেই জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে খাবারের শেষে মিষ্টি না হলে হয়! খাবারের শেষে থাকছে পছন্দের নরক রকমের মিষ্টি। যেমন সন্দেশ, নারকেল বরফি এবং রসগোল্লার মতো চেনা স্বাদে পাওয়া যাবে বাংলা এবং অসমের মিষ্টির ঐতিহ্য।
মেফেয়ার স্প্রিং ভ্যালি রিসর্ট (Mayfair Spring Valley Resort)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রতন শর্মা জানিয়েছেন যে, এই খাবারের পরিকল্পনা রেলযাত্রার চেনা ধারা থেকে একটু আলাদা ভাবে করা হয়েছে। যাত্রীরা যেন ট্রেনের মধ্যে বসেই আঞ্চলিক খাবারের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারেন, সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য।
প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পেরোনো এই হাওড়া থেকে কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনই হল দেশের প্রথম রাতের বন্দে ভারত পরিষেবা। ট্রেনে রয়েছে ১৬টি স্লিপার কোচ, ফার্স্ট এসি, এসি টু-টিয়ার এবং এসি থ্রি-টিয়ার। সব মিলিয়ে মোট ৮২৩ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। আধুনিক বার্থ, অটোমেটিক দরজা, কম শব্দের ব্যবস্থা, উন্নত সাসপেনশন, কাবাচ অ্যান্টি-কলিশন (Kavach anti-collision) সিস্টেম এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতির সুবিধা এই ট্রেনকে আরও নিরাপদ এবং দ্রুত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন শুধু যাতায়াতই নয়, যাত্রীদের জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা দিতে প্রস্তুত।












Click it and Unblock the Notifications