Ram Mandir: ১৫২৮ থেকে ২০২৪, বাবরি মসজিদ থেকে রাম মন্দিরের প্রতিষ্ঠা, ফিরে দেখা ইতিহাসের অধ্যায়গুলি
দীর্ঘ ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আইনি লড়াইয়ের একটা অধ্যায় যেন সমাপ্ত হল সোমবার। ঐতিহাসিক অযোধ্যায় এক ইতিহাসের সূচনা হল সোমবার। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাম মন্দির প্রতিষ্ঠিত হল অযোধ্যায়।প্রায় ৫০০ বছরের ইতিহাস। সোমবার সরযূ নদীর ধারে রাম মন্দিরে রামলালার প্রতিষ্ঠার সঙ্গেই ভারতীয় ধর্মের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে ইতিহাসের আলোকে ফিরে দেখা যাক রামের জন্মভূমি থেকে বাবরি মসজিদ হয়ে রাম মন্দিরের বির্বতনের ইতিহাস। দেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ সরযূ নদীর তীরে অবস্থিত অযোধ্যা।, এখানে একটি ৫০০ বছরের বিবাদ কীভাবে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে পরিণত হয়েছিল তার দিকে ফিরে তাকানো যাক।

সালটা ১৫২৮ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ তৈরি করালেন মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মির বাকি। বছর দুয়েক আগেই এই দেশে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সম্রাট বাবর। এরপর ১৮৮৫ সালে মহন্ত রঘুবীর দাস রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত কাঠামোর বাইরে শামিয়ানা তৈরি করে রামলালার মূর্তি স্থাপনের আবেদন জানালেন । ফৈজাবাদের জেলা আদালতের তাঁর দাবি খারিজ করে দেন। সেই শুরু হল রাম মন্দির বিতর্ক এবং আইনি লড়াই।
এরপর ব্রিটিশ যুগ পেরিয়ে স্বাধীন হল। কাশ্মীর সমস্যার মতোই আরও একটি বিতর্কিত জারি থাকল। ১৯৪৯ ডিসেম্বর মাসে বিতর্কিত কাঠামোর মূল গম্বুজের নীচে রামলালার মূর্তি স্থাপিত হল। কট্টর হিন্দপন্থীরা দাবি করলেন, 'রামলালা প্রকট হয়েছেন'।
এর পরের বছরই। গোপাল সিমলা এবং মহন্ত রামচন্দ্র দাস ফৈজাবাদ আদালতে পৃথকভাবে বিতর্কিত স্থানে রামলালার পুজোর অনুমতি চাইলেন। বিতর্ক ক্রমশই বাড়তে থাকল। সেই সঙ্গে ধর্মীয় একটা স্পর্শ কাতর বিষয়ের সূচনা হতে লাগল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে।
১৯৮১ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ। বিতর্কিত জমির মালিকানা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হল উত্তরপ্রদেশ সেন্ট্রাল সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড।সেই দশকে বিতর্ক আরও বাড়ে যখন বিতর্কিত স্থানের দরজা হিন্দুদের উপাসনার জন্য খুলে দিতে বলল ফৈজাবাদের আদালত।
এরপর ১৯৯০-র দশকের গোড়ার দিক থেকেই বিতর্ক ক্রমশ মাথা চাড়া দেয়। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত তারিখগুলোর অন্যতম ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২। করসেবকদের হামলায় ধূলিসাৎ হল বাবরি মসজিদ।বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, যার ফলে প্রাণ ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
পিভি নরসিমহা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগ্রহণ বিতর্কিত এলাকাকে ডক্টর ইসমাইল ফারুকি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যার ফলে ১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় আসে। রায়টি এই অধিগ্রহণকে বহাল রাখে, বিষয়টিতে রাজ্যের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করে।এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০০২ সালে মামলার শুনানি শুরু করে এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) মসজিদের নীচে একটি হিন্দু মন্দিরের প্রমাণ দাবি করে খননকার্য পরিচালনা করে।
আইনি লড়াই চলতে থাকে।২০১৭ সালের ২১ মার্চ দেশের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর বললেন, আদালতের বাইরেই মীমাংসা করে নেওয়া হোক অযোধ্যা বিতর্কের। একই বছরেরঅগাস্ট মাসে অযোধ্যা মামলার শুনানির জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে দেশের শীর্ষ আদালত।
২০১৯ সালে একটি যুগান্তকারী রায় দেয় সর্বোচচ্ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সমগ্র বিতর্কিত জমি হিন্দুদের প্রদান করে এবং একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি বিকল্প জায়গা বরাদ্দ করে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৫ আগস্ট, ২০২০ সালে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। একটি 'ভূমিপূজান' এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের গঠন রাম মন্দির নির্মাণ কমিটি গঠন করেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরে রামলালার প্রতিষ্ঠা হল।












Click it and Unblock the Notifications