মধ্যস্থতাকারীকে ১ মিলিয়ন ইউরো 'উপহার' দাসোঁর, রাফাল নিয়ে নয়া ঝড়ের ইঙ্গিত দেশে
রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনেকে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্লিনচিট দেয়। কিন্তু সেই রায় খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে আবেদন জমা পড়ে। তাতেও মোদী সরকারের উপর কোনও কালিমা লাগানো যায়নি। তবে এবার ফের একবার রাফাল কাণ্ডে ঘুষের তত্ত্ব সামনে এল। নেপথ্যে একটি ফরাসি মিডিয়া রিপোর্ট।

মধ্যস্থতাকারীকে এক মিলিয়ন ইউরো ঘুষ
ফরাসি সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হল, রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য এক মধ্যস্থতাকারীকে এক মিলিয়ন ইউরো ঘুষ দিয়েছিল বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা দাসোঁ অ্যাভিয়েশন। তবে ওই টাকা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আর এই তথ্য সামনে আসতেই ফের রাফাল চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে সরব হল কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। ফরাসি সংস্থার কাছ থেকে কে ঘুষ নিল, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

অডিট রিপোর্টে উঠে আসে দালালি দেওয়ার বিষয়টি
ফরাসি সংস্থা 'মিডিয়া রিপোর্ট' দাবি করেছে, ২০১৬ সালে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পরের বছরই রাফাল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন ভারতের এক মধ্যস্থাকারীকে এক মিলিয়ন ইউরো 'উপহার' দিয়েছিল। রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিতে যে ফরাসি সংস্থা দাসোঁকে দালালি দিতে হয়েছে, তা প্রকাশ হয়েছে ফরাসি দুর্নীতি দমন সংস্থার বিশেষ অডিট রিপোর্টে। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাসোঁর সাফাই ছিল, 'এক মিলিয়ন ইউরো ৫০টি মডেল বিমান বানানোর জন্য খরচ হয়েছিল।' যদিও পরবর্তীতে কোনও মডেল বিমান বানানো হয়নি বলে তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছিল।

৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করে ভারত
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৩৬টি রাফাল কিনতে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করে ভারত। তার আগে কংগ্রেস সরকার ওই সংস্থার সঙ্গেই ৭৯ হাজার কোটিতে ১২৬টি রাফাল কেনার জন্য আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। এই দাম প্রকাশ্যে আসতেই হইচই বেঁধেছিল রাজনৈতিক মহলে। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বঞ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার। কারণ শিল্পপতি অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স এরোস্ট্রাকচার লিমিটেডকে অফসেট পার্টনার হিসেবে বেছে নিয়েছিল দাসোঁ।

হিন্দুর 'নথি বিস্ফোরণ'
এসব অভিযোগের মাঝেই হিন্দু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল একটি নথি। নথি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল কেনা নিয়ে সমান্তরাল আলোচনা চালিয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব সরকারি নোটে তার প্রতিবাদও করেছিলেন। চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে প্রচুর পদ্ধতিগত ত্রুটিও রয়েছে বলে দাবি করা হয় সেই নথিতে। কংগ্রেস আমলের চুক্তির তুলনায় যুদ্ধবিমান কিনতে দামও বেশি দিয়েছে। তবে সেই নথি আদালতে গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলে কেন্দ্রের মোদী সরকার ক্লিনচিট পেয়েছিল। তবে নতুন করে ফরাসি মিডিয়ার এই রিপোর্ট দেশে রাফাল নিয়ে ঝড় তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications