সেদিন গান্ধীজির সঙ্গে হেঁটেছিলেন, দেশকে এক সূত্রে গাঁথতে রাহুলের পরিক্রমায় সেই ৯০-এর যুবক
ভারতকে এক সূত্রে গাঁথতে রাহুল গান্ধী নেমেছেন পথে। ভারত জোড়ো যাত্রায় কন্যাকুমারী থেকে শুরু করে তিনি ইতিমধ্যে আট রাজ্য অতিক্রম করে পৌঁছে গিয়েছেন রাজধানী দিল্লিতে। তাঁর এই যাত্রাপথে তিনি অনেক গুণীজনকে পাশে পেয়েছেন।
ভারতকে এক সূত্রে গাঁথতে রাহুল গান্ধী নেমেছেন পথে। ভারত জোড়ো যাত্রায় কন্যাকুমারী থেকে শুরু করে তিনি ইতিমধ্যে আট রাজ্য অতিক্রম করে পৌঁছে গিয়েছেন রাজধানী দিল্লিতে। তাঁর এই যাত্রাপথে তিনি অনেক গুণীজনকে পাশে পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এক নবতীপর 'যুবক'।

তিনি কংগ্রেসের পতাকা হাতে স্বাধীনতা আন্দোলনে হেঁটেছিলেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে মিছিলে। আজ তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও হাঁটছেন। সেদিনের কিশোর আজ ৯০ পেরিয়েছেন। কিন্তু এখনও তাঁর প্রাণে রয়েছে যৌবনের উদ্যম। আজও তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পা মিলিয়ে হেঁটে চলেছেন ভারত জোড়ো যাত্রায়।
রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা এদিনই রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছয়। এদিন তাঁর ভারত জোড়ো যাত্রায় পা মেলান সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কমল হাসানও পা মেলান রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু এদিন রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রায় যে ব্যক্তিত্বের কথা সামনে আসে, সেই নবতীপর যুবকই প্রচারের আলোয় চলে আসেন।
স্বাধীনভারত তো বটেই বিশ্বের ইতিহাসে দেশের সংহতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় এদিন দীর্ঘতম যাত্রা। এত বড় যাত্রা এর আগে হয়নি। ভারতের প্রখ্যাত ব্যক্তিরা হেঁটেছিলেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ থেকে শুরু করে রিজা্রভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন ও সংস্কৃতি জগতের বহু পরিচিত মুখও রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রায় অংশ নেন।
তবে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে হাঁটা ৯০ বছরের করুণা মিশ্র সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেন। তাঁর উপস্থিতি সবাইকে ছাপিয়ে যায় এদিন। স্বাধীনতার লড়াইয়ে তিনি যখন মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। এখন তিনি ৯০। এখনও তিনি হাঁটছেন এদেশের সংহতি রক্ষা করতে।

তিনি এদিন আক্ষরিক অর্থেই এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি রাহুলের মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে এদিন স্মরণ করেছেন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সেই স্বাধীনতার মিছিলে হাঁটার কথা। সেটা ছিল ১৯৪৪ সাল। মহাত্মা গান্ধী এসেছিলেন জব্বলপুরে। তাঁকে দেখেই চাচাজি, চাচাজি বলে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন। আমার ডাক শুনে পিছন ফিরে তাকিয়ে গান্ধীজি আমার পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন।
রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত আট বছর ধরে সমগ্র দেশে যা চলছে, তা মেনে নিতে পারছি না। দেশের সংহতি বিপন্ন। তাই ঘৃণার রাজনীতিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে রাহুলজি যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই উদ্যোগে শামিল না হয়ে পারলাম না। তা নেমেছি এই মিছিলে হাঁটতে। নেমেছি সেদিনের কথা চিন্তা করে, যেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন গান্ধীজি।
জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন করুণা মিশ্র। এথদিন পর তিনি ফের রাজনৈতিক ময়দানে নামলেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে। দেশের সংহতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় রাহুল গান্ধীকে সমর্থন দেওয়া দরকার, তাই নামলাম রাজনীতিতে। একইসঙ্গে তিনি এই বয়সেও তাঁর ফিট থাকার রহস্য জানিয়ে দেন। বলেন, প্রতিদিন কলা আর হলুদ-দুধ খেয়েই তিনি পিট। এদিন করুণা মিশ্রের যোগদান রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রাকে এক অন্যমাত্রা দিল।












Click it and Unblock the Notifications