পিছোতে পারে ফাঁসি, নতুন যুক্তি খাড়া করে আদালতের দ্বারস্থ নির্ভয়াকাণ্ডের আসামিরা
দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্তদের নিদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ফাঁসি ফিছোনো বা এড়াতে আরও মরিয়া হয়ে উঠছে তারা। এই মরিয়া ভাব থেকেই ১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি কার্যকর না করে তা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করে দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হলেন চার সাজাপ্রাপ্তের আইনজীবী। এই বিষয়ে আইনজীবী এপি সিং দাবি করেন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী বিনয় কুমার শর্মা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই ফআঁসি পিছিয়ে দেওয়া হোক।

বুধবার বিনয় কুমার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়
যাবতীয় প্রশাসনিক ও আইনি অধ্যায় কাটিয়ে ঠিক হয়েছিল আগামী ১ ফেব্রুয়ারি হবে নির্ভয়াকাণ্ডের ধর্ষকদের ফাঁসি। তবে এবার শোনা যাচ্ছে যে, সেই ফাঁসির দিন আরও পিছিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যাবেলা বিনয় কুমার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়। রাষ্ট্রপতি সেই আবেদন যখনই নাকচ করবে তার থেকে ১৪ দিন পর ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব।

সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবীর যুক্তি
এদিকে সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবীর যুক্তি, দিল্লি কারাগার আইন অনুযায়ী একই দোষে সাজাপ্রাপ্তদের একই সঙ্গে ফাঁসি দিতে হয়। তাই যেহেতু বিনয়ের ফাঁসি পিছিয়ে যেতে চলেছে তাই বাকি সাজাপ্রাপ্তদের ফাঁসিও পিছিয়ে দিতে হবে। আর সেই মর্মেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এপি সিং।

অক্ষয় ও পবনের কাছে এখনও সুযোগ রয়েছে
এদিকে এখনও পর্যন্ত নির্ভয়া ধর্ষণকাণ্ডে অক্ষয় ও পবনের কাছে কিউরেটিভ আবেদন ও প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এদিকে, অক্ষয় নিজের পক্ষে কিউরেটিভ আবেদন রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের কাছে। যার শুনানি আজ। তার পিটিশনে অক্ষয় বলেছে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে জনতার চাপে পড়ে। সেই মর্মে আদালত কোন রায় দেয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে সকলকে। এদিকে, নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী পবনের সামনে রয়েছে আরও একটি সুযোগ। সে এখনও কিউরেটিভ আবেদন রাখেনি মত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে।

নির্ভয়ার মা-বাবার আবেদনের ভিত্তিতে রায় দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট
এর আগে ৭ জানুয়ারি দিল্লি গণধর্ষণে মৃত নির্যাতিতার মা-বাবার আবেদনের ভিত্তিতে রায় দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছিল যে ২২ জানুয়ারি ৪ সাজাপ্রাপ্তের ফাঁসি কার্যকর হবে। নির্যাতিতা নির্ভয়ার মা-বাবা আবেদন করেছিল যে যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হোক। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বিচারক সতীশ কুমার এই রায় শোনান। তবে আইনের ঘেরাটোপে পড় সেই তারিখ পিছিয়ে যেতে থাকে।

২০১২ সালের সেই অভিশপ্ত রাত
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির সড়কে একটি বাসের মধ্যে নারকীয় গণধর্ষণ চালানো হয় এক তরুণীর উপর। বাসে বছর তেইশের নির্ভয়াকে গণধর্ষণ, ভয়াবহ মারধর এবং যৌন অত্যাচার করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল ছ'জন। এরপর বহুদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পরে অবশেষে সেই বছরই ২৮শে ডিসেম্বর মৃত্যু হয় নির্ভয়ার। আর গোটা দেশ তাঁকে 'নির্ভয়া ' নামের পরিচিতি দেয়। সেই নির্ভয়াকাণ্ডের ৭ বছর কেটে গিয়েছে। অভিযুক্ত ওই ছয়জনকে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন নাবালক, এবং অন্য একজন তিহার জেলেই আত্মহত্যা করে। বাকি চারজনকে ফাঁসির সাজা শোনায় আদালত।












Click it and Unblock the Notifications