সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই, চিনের বিদেশ মন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে সাফ জানালেন জয়শঙ্কর
চিনা বিদেশমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী মুখোমুখি হলেন নয়াদিল্লিতে। বিগত এক-দেড় বছরে ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হয়েছে, তারপর এই দুই মন্ত্রী সা
না, আমাদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক নেই। সীমান্তের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নেই। চিনা বিদেশমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী মুখোমুখি হলেন নয়াদিল্লিতে। বিগত এক-দেড় বছরে ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হয়েছে, তারপর এই দুই মন্ত্রী সাক্ষাৎ ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এ দিন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-কে জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই। ১৯৯৩-৯৬ চুক্তি ভেঙে সীমান্তে চিনা সেনার উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জয়শঙ্কর। তাই যতদিন পর্যন্ত চিনের সেনা উপস্থিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সম্পর্ক ঠিক হবে না বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এ দিন দুই মন্ত্রী বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, এখনও অনেক জায়গায় দুই দেশের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্যাংগং সো-তেও একই অবস্থা বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয় তাঁদের। বৈঠক শেষে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২০-র এপ্রিলের ঘটনা অর্থাৎ গালোয়ান সংঘর্ষের জেরে কীভাবে ভারত-চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে, সেই আলোচনাই করেছেন তিনি।
পাশাপাশি আফগানিস্তান, ইউক্রেনের মতো আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক সাংবাদিক বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে সম্পর্কের উন্নতি ঘটনোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে সেটা খুব ধীরগতিতে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মত প্রকাশ করেছেন দুজনেই। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে দুই দেশেরই মত, কথোপকথনের ওপর জোর দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন সফরে এসেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তার এই সফরের মধ্যে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উল্লেখ করেছেন, খুব কম সংখ্যক মানুষই হয়তো কল্পনা করতে পেরেছিলেন যে বিগত দুই বছরে ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক এমন মোড় নেবে।
২০২০ সালে সম্পর্কের অবনতির সূত্রপাত। পূর্ব লাদাখে নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে ভারত ও চিনের মধ্যে যে বিরোধ শুরু হয়েছিল, তার জেরে রক্তপাতও হয়। গালোওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে গালওয়ানের ওই সংঘর্ষে শহিদ হন ২০ জন ভারতীয়। অনেক চিনা সৈন্যও মারা যান। বারবার বৈঠকে বসেও কোনও লাভ হয়নি।
চিনা দ্রব্যও বয়কট করতে শুরু করে ভারত। চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। দোভাল এদিন জানিয়েছেন, লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহার হলেই উত্তেজনা কমে যাবে সীমান্তে। সেনা প্রত্যাহারের ওপর বিশেষ করে জোর দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।












Click it and Unblock the Notifications