রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ১০০ দিন পার, চরমে পৌঁছাবে খাদ্য সঙ্কট
ইউক্রেনে যুদ্ধ ১০০ দিনে ঠেকল। একদিকে নাছোড়বান্দা পুতিন , অপরদিকে ন্যাটোর সাহায্য নিয়ে রাশিয়াকে কোনওমতে ঠেকিয়ে রাখা ইউক্রেন। এর জেরে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেমন দুই দেশেই কমছে তেমন এই যুদ্ধের রেশ পড়ছে সারা বিশ্ব জুড়ে। এবার খবর মিলছে এই যুদ্ধের রেশ পড়বে অন্যভাবে। ভাতে এবং পাতে দুই দিক দিয়েই বিশ্বের মানুষ বিপদে পড়বে এবং তা ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে। এর প্রভাব দিন যত গড়াবে তত বড় আকারে পড়বে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন খাদ্য়ে পড়বে টান
তিনটি খাদ্য আইটেমের মধ্যে - গম, ভুট্টা এবং চাল , যা বিশ্বের মানুষকে প্রায় ৪০ শতাংশের ক্যালোরি দেয় এর মধ্যে দুটির উৎপাদন ২০২২ সালে কমবে বলে জানা যাচ্ছে।

হিসেব কী বলছে ?
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারের হিসেব অনুযায়ী, এ বছর গমের উৎপাদন ০.৫১ শতাংশ বা ৪ মিলিয়ন টন কমে যাবে। একইভাবে, ভুট্টা উৎপাদন সামান্য হ্রাস পাবে। তবে চালের উৎপাদন ৫১৫ মিলিয়ন টন ছুঁয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সেটাই একমাত্র আশার আলো কিন্তু বিশ্বের সব মানুষ ধান বা চাল জাত খাদ্যের উপর নির্ভরশীল নন। আর এটাই জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেবে বলা বলা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী গমের দাম ৯১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভুট্টার দাম ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের একটি গবেষণাপত্র মনে করে যে প্রায় ৪৫টি দেশ যেগুলি বেশিরভাগই আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় অবস্থিত সেগুলি "সঙ্কটের খারাপ প্রভাব সহ্য করে চলেছে।"

কোথায় বেশি সমস্যা ?
ইয়েমেন, লেবানন, হাইতি, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া এবং সুদান হল এমন কিছু দেশ যেখানে খাদ্য আমদানির উপর বেশি নির্ভরতা বেশি রয়েছে, উচ্চ মূদ্রাস্ফীতি হয়েছে, ঋণের বোঝা বেশি, জলবায়ু জনিত ঝুঁকি রয়েছে। এখানে সমস্যা আরও বেশি।

খাদ্যদ্রব্যের দাম এমনভাবে বৃদ্ধির কারণ কী?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একটি প্রধান কারণ হয়েছে। প্রায় ১০০ দিন ধরে যুদ্ধে করতে থাকা দুটি দেশ ভুট্টা এবং গমের প্রধান রপ্তানিকারক, যা বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ব্যবহৃত দুটি খাদ্য আইটেম। ২৫ টি আফ্রিকার দেশন রাশিয়া এবং ইউক্রেনের থেকে তাদের মোট গমের প্রয়োজনের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি আমদানি করত । এর মধ্যে ১৫ টি দেশের নির্ভরতা ছিল ৫০ শতাংশ বা তার বেশি।
রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, এবং ইউক্রেন থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, এই দেশগুলি বেশিরভাগই বিকল্পগুলি সন্ধান করতে বাধ্য হয়েছে যা সহজলভ্য নয়। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির জেরে অনেক সরবরাহকারী দেশ আবার খাদ্যদ্রব্যের রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে খাদ্যের দাম অবিরাম হারে বৃদ্ধি হয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছিল।ঠিক সেই সময়েই শুরু হল যুদ্ধ। মহামারী-বিধ্বস্ত বিশ্ব কি আবারও যে খাদ্য সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে তা বলা যেতেই পারে।












Click it and Unblock the Notifications