নিরাপত্তার প্রশ্নে বিক্ষোভ! কাজে বাধাদানের অভিযোগে লোকসভা থেকে নয় কংগ্রেস সাংসদ-সহ সাসপেন্ড ১৫
হাউসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে, লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হল পাঁচ কংগ্রেস সাংসদকে। এব্যাপারে প্রস্তাবও পাশ করানো হয়েছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী পাঁচ সাংসদকে সাসপেন্ড করতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যাকে সমর্থন করেন বিজেপি-সহ এনডিএ সাংসদরা। সবমিলিয়ে এদিন শীতকালীন অধিবেশনের জন্য ১৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এব্যাপারে প্রস্তাবটি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, এই হাউসে টিএন প্রথাপন, হিবি ইডেন, জোথিমনি, রাম্য হরিদাস এবং ডিন কুরিয়াকোস অসদাচরণ করেছে। তাঁরা হাউস ও চেয়ারের কর্তৃত্বকে অবজ্ঞা করেছেন। শীতকালীন অধিবেশনের জন্য অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁরা লোকসভায় ঢুকতে পারবেন না।

এদিন সব মিলিয়ে যে ১৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের নয়জন, সিপিএমের দুজন, ডিএমকের দুজন, সিপিআই ও তৃণমূলের একজন করে সাংসদ। ওপরে উল্লিখিত সাংসদরা ছাড়াও বাকিরা হলেন, মানিকম ঠাকুর, কানিমোঝি, পিআর নটরাজন, ভিকে শ্রীকান্তম, বেণী বাহন, কে সুব্রহ্মণ্যম, এআর প্রতিবান, এস ভেঙ্কটেশান এবং মহঃ জাভেদ।
এদিন লোকসভায় বিরোধী সদস্যরা লোকসভায় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাঁরা এব্যাপারে সরকারের বিবৃতিও দাবি করেন। সেই সময় অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বলেন, সংসদ কমপ্লেক্সের নিরাপত্তার দায়িত্ব লোকসভা সচিবালয়ের।
এদিন লোকসভায় অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী সদস্যরা সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে সরকারের বিবৃতি দাবি করেন এবং স্লোগান দেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা প্রশ্নোত্তরের সময় দুটি প্রশ্ন এবং তাদের সাপ্লিমেন্টারি প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী।
সেই সময় হট্টগোলের কারণে স্পিকার দুপুর দুটো পর্যন্ত সংসদ লোকসভা মুলতুবি করার আগে কংগ্রেসের তিন সদস্য। টিএন প্রথাপন, ডিন কুরিয়াকোস এবং হিবি ইডেনকে সতর্ক করেন।
বুধবার লোকসভার দর্শকাসন থেকে দুই যুবক লোকসভার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তানাশাহি নেহি চলেগি, ভারত মাতা কি জয় এবং জয় ভীমের মতো বিভিন্ন স্লোগান দেয়। সেই সময় সঙ্গে আনা স্মোক ক্যান থেকে হলুদ রঙের ধোঁয়াও ছেড়ে দেয়। এর ফলে সেই সময় হাউসে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।
প্রসঙ্গত যে দুজন বুধবার লোকসভায় দর্শকাসন থেকে ঝাঁপ দেয়, তারা মাইসুরুর বিজেপি সাংসদের দেওয়া ভিজিটরস পাস ব্যবহার করেছিল। যে কারণে বিরোধী সাংসদরা বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহাকে বরখাস্তের দাবি করেন।
এদিকে সংসদ ভবনে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় আট নিরাপত্তারক্ষীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া নিরাপত্তারক্ষীরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী, যাঁদের ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছিল। সাসপেন্ড হওয়া নিরাপত্তা কর্মীরা হলেন, রামপাল, অরবিন্দ, বীর দাস, গণেশ, অনিল, প্রদীপ, ভিমিত এবং নরেন্দ্র।
নিরাপত্তার প্রশ্নে হট্টগোলের এদিন একাধিকবার সংসদের অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। তবে এদিন সংসদের নিরাপত্তা ছিল অনেক আঁটোসাটো। প্রসঙ্গত এদিন ওই একই কারণে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications