পাঁচ বছরেই মুক্তি, পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরছে ২০ ভারতীয়

পাকিস্তান রবিবার একটি জন ২০ জন ভারতীয় জেলেকে মুক্তি দিয়েছে। জানা গিয়েছে এদের দেশের জলসীমার বাইরে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে গত পাঁচ বছর আগে প্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজ তারা মুক্তি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাঁচ বছরেই মুক্তি, পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরছে ২০ ভারতীয়

করাচির ল্যান্ডি এলাকার মালির জেলা কারাগারে ওই কুড়িজন জেলেকে বন্দি রাখা হয়েছিল। ওয়াঘা সীমান্তে যাওয়ার পথে তাদের লাহোরে পাঠানো হয় যেখানে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জেল সুপার মুহাম্মদ ইরশাদ জানান, ফেডারেল সরকারের নির্দেশে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেল সুপার জানিয়েছেন , "তারা গত পাঁচ বছর জেলে ছিল। আজ, তাদের এধি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে যা তাদের পুলিশ প্রহরায় লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়িত্বে থাকবে।" ইরশাদ বলেন, এই জেলেদের ২০১৮ সালের জুন মাসে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল এবং তারপরে পাকিস্তানের আঞ্চলিক জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল।

ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান ফয়সাল এধি বলেন, ভারতীয় জেলেদের যাবতীয় খরচ ও ভ্রমণ তারাই বহন করছেন। পাকিস্তান ও ভারত নিয়মিত জেলেদের সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের জন্য গ্রেপ্তার করে। তারপর কেউ একটু আগে মুক্তি পায় অনেকের বছরের পর বছর কেটে যায় কিন্তু মুক্তি মেলে না। তুলনায় এই জেলেদের ভাগ্য ভালো ছিল। মাত্র পাঁচ বছরেই মিলেছে পাকিস্তান জেল থেকে মুক্তি।

এমন ঘটনার সবথেকে বড় উদাহরণ সরবজিৎ সিং।সরবজিতকে কাসুরের কাছে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সিং এবং তিনি দরিদ্র কৃষক ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন। তার বোন বলেছিলেন যে পরিবার অনুসন্ধান শুরু করেছিল কিন্তু নয় মাস ধরে তার হদিস সম্পর্কে কোনও কিছুই খুঁজে মেলেনি। এক বছর পর তারা সরবজিতের কাছ থেকে একটি চিঠি পান, যাতে জানা যায় তাকে পাকিস্তানে মনজিৎ সিং হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে, কারণ তার কাছে কোনো পরিচয়পত্র নেই এবং লাহোর পুলিশ তাকে বোমা হামলায় অভিযুক্ত করেছে। তাকে গুপ্তচরবৃত্তি এবং বোমা হামলা চালানোর জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কিছু সূত্র বলছে যে প্রথমে তাকে অবৈধভাবে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আট দিন পর, পাকিস্তানি পুলিশ তার বিরুদ্ধে ফয়সালাবাদ এবং লাহোরে ১৯৯০ সালের সন্ত্রাসবাদী বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ আনে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে তিনি 'মনজিৎ সিং' ছিলেন এবং চারটি বিস্ফোরণের জন্য দায়ী ছিলেন যাতে ১৪ জন নিহত হয়। কিন্তু আসল ব্যক্তি মনজিৎ সিংকে পরে গ্রেফতার করা হয়। তারপরেও ছাড়া পাননি সরবজিত সিং।

তাকে ২৬ এপ্রিল ২০১৩-এ লাহোর সেন্ট্রাল জেলে অন্যান্য বন্দীরা ইট, ধারালো ধাতব পাত, লোহার রড এবং ব্লেড দিয়ে আক্রমণ করে। মাথায় গুরুতর আঘাত, ভাঙ্গা মেরুদণ্ড সহ গুরুতর অবস্থায় তাকে লাহোরের জিন্নাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
২ মে ২০১৩ তারিখে, লাহোরে তিনি মারা যান বলে জানা গিয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+