দেশে ২.৫ শতাংশের নিচে নামল করোনায় মৃত্যুর হার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র–গুজরাত
দেশে ২.৫ শতাংশের নিচে নামল করোনায় মৃত্যুর হার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র–গুজরাত
দেশের করোনা সংক্রমণের সংখ্যা যেখানে দশ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে ২৬,৮১৬, সেখানে এই প্রথমবার আক্রান্তের মৃত্যুর হার (সিএফআর) ২.৫ শতাংশ কমতে দেখা গেল। ২.৪৯ শতাংশে, ভারতের সিএফআর বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ১.৭৮ শতাংশ কম বলে জানা গিয়েছে।

সিএফআর কম হওয়ার কারণ
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সিএফআর জাতীয় গড়ের চেয়ে নীচে, অন্যদিকে ১৪টি রাজ্যে সিএফআর ১ শতাংশের নীচে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সিএফহার নিম্নগামী হওয়ার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ‘রোগীর উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে কেস রিপোর্ট করা হচ্ছে, দেশের মহামারি নিরীক্ষণকারী সরকারি সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে কিছু রাজ্যে বাড়তে থাকা মৃত্যুর হার লাল সতর্কতা জারি করছে, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাত। যেখানে জাতীয় সিএফআর হার তুলনায় অনেক বেশি, তবে তা এড়ানো যায়।'

চিন্তা বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র–গুজরাত
সরকারি এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জাতীয় সিএফারের নিম্নগামী হার অবশ্যই আমাদের কাছে আশার আলো। এটা আমাদের নিশ্চিত করেছে যে রোগীর উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা নেই। রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে কেন্দ্রের জারি করা চিকিৎসা করার পর্যাপ্ত সময় ও রোগীকেও সুস্থ হওয়ার সময় দেয়, যার জন্য সিএফআরের হার কম।' যদিও সূত্রের খবর, সরকার এটা স্বীকার করে নিয়েছে যে জাতীয় সিএফআরের তুলনায় সর্বোচ্চ সিএফআর দুই রাজ্যে দেখা গিয়েছে। বড় রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র (৩.৮৫), গুজরাত (৪.৪৮) ও পশ্চিমবঙ্গে (২.৬৭) অনবরত সিএফআর রিপোর্ট জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। সরকারি মতে, ‘এই রাজ্যগুলিতে হাসপাতালে আক্রান্তদের দেরি করে নিয়ে আসা হচ্ছে। দুর্বল পর্যবেক্ষণ এবং কেস সনাক্ত ও আইসোলেট করতেও এই রাজ্যগুলির অক্ষমতা নজরে এসেছে, জাতীয় গড়ের চেয়ে এই রাজ্যগুলিতে সিএফআর বেশি, তবে আগে রোগীকে নিয়ে আসলে এই মৃত্যুমিছিল এড়ানো যায়।'

রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে
সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম ও ওড়িশায় খুব কাছ থেকে সিএফআরের ওপর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে যে বর্তমানে এই রাজ্যগুলির সিএফআর জাতীয় গড়ের তুলনায় নিম্নগামী। এই রাজ্যগুলিও আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে লকডাউনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সরকারি মতে, ‘দক্ষিণের রাজ্যগুলির পাশাপাশি, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে। গত এক সপ্তাহে বিহারে ১০০০টি কেস সনাক্ত হয়েছে। একইভাবে অসম ও পশ্চিমবঙ্গেও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে দেখা গিয়েছে। এই সময়েই রাজ্য সরকারগুলিকে খুব দ্রুতভাবে কনটেইনমেন্ট, ট্রেসিং ও টেস্টিংয়ের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। এমনকী ওড়িশাকেও এখন একই পথে হাঁটতে হবে।'

চার রাজ্যে সিএফআর নিম্নগামী জাতীয় গড়ের তুলনায়
জাতীয় গড় সিএফআরের তুলনায় যে সব রাজ্যে সিএফআর নিম্নগামী সেগুলি হল তেলঙ্গানা (০.৯৩), অন্ধ্র প্রদেশ (১.৩১), তামিলনাড়ু (১.৭৫), কর্নাটক (২.০৬) ও উত্তরপ্রদেশ (২.৩৬)। এই রাজ্যগুলিতে সবচেয়ে বেশি কোভিড কেস রয়েছে এবং গত দু'সপ্তাহ ধরে ভারতের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, রাজ্যগুলিতে কেসের সংখ্যা সর্বোচ্চ হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রের দ্বারা রাজ্যকে জারি করা ক্রমাগত পরিশোধিত ক্লিনিক্যাল পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার কারণেই সিএফআর কম এইসব রাজ্যে।

আমেরিকা ও ব্রাজিলের চেয়ে সিএফআর কম ভারতে
হু-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩.৮৮ শতাংশ) ও ব্রাজিল (৩.৮১ শতাংশ)-এর তুলনায় সিএফআর নিম্মগামী ভারতের (২.৪৯ শতাংশ)। এই দু'টি দেশেই একমাত্র ভারতের তুলনায় করোনা আক্রান্তের ভার বেশি রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications