ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল গত অক্টোবর থেকেই, অসম-মিজোরাম সমস্যার মূলে কি সেই লায়লাপুরই?
ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল গত অক্টোবর থেকেই, অসম-মিজোরাম সমস্যার মূলে কি সেই লায়লাপুরই?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর সীমান্ত বিবাদ মেটাতে উদ্যোগী হয় দুই রাজ্যই। মুখ্যমন্ত্রী সহ বৈঠকে বসেন অসম মিজোরামের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এদিকে তারমাঝেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অসমের লায়লাপুর। দুই রাজ্যেই সীমানায় শান্তি ফেরানোর অঙ্গীকার করলেও অসমের দিকে অর্থনৈতিক অবরোধ কিছুতেই উঠছিল না। যদিও বর্তমানে আলোচনার পর বর্তমানে সেখানেও শান্তি ফিরেছে বলে জানা যাচ্ছে। ফের মিজোরামের দিকে যেতে শুরু করেছে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক।

দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লায়লাপুর এলাকা
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ধলাই থেকে মিজোরামের দিকে ডিম নিয়ে যাচ্ছিল চারটি পিক-আপ গাড়ি। ভাগা বাজার এলাকায় গাড়িগুলি থামিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশ গাড়ি ছাড়াতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় দু-পক্ষের মধ্যে। তাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পরিস্থিতি। অন্যদিকে এর আগে হাইলাকান্দিতে মিজোরামমুখী পিক-আপ ভ্যান অবরোধমুক্ত করতে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষও হয় বলে জানা যায়।

মাঠে নামতে বাধ্য হন হিমন্তবিশ্ব শর্মা
এমনকী গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে যায় যে বরাকের ১৪ জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করতে বাধ্য হন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তারপরেই খানিকটা গলে বরফ। অন্যদিকে ট্রাক সহ অন্যান্য যান আটকে যে ভাবে অর্থনৈতিক অবরোধ করছিল লায়লাপুরের সাধারণ মানুষেরা। তাতে বিপাকে পড়ছিল দুই রাজ্যের মানুষই। এমতাবস্থায় উত্তেজনা ঠেকাতে সেখানে যান লায়লাপুর পৌঁছন মন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য ও অশোক সিঙ্ঘল।

কি অভিযোগ করছে মিজোরাম
এদিকে কয়েদকিন ধরেই মিজোরাম সরকার অভিযোগ করছিল অসম অবরোধ না তোলায় তাদের সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকী করোনার জীবনদায়ী ওষুধও ঢুকছে না রাজ্যে। তার জেরে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। এমনকী অসসমর্থিত সূত্রে খবর, অবরোধের বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। আর তাতেই চাপে পড়ে অসম। অবশেষে পরিস্থিতি সামল দিতে মাঠে নামেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

গত অক্টোবর থেকেই জ্বলছিল ক্ষোভের আগুন
এদিকে গত বছর অক্টোবরে প্রথম বার লায়লাপুরে সীমানা-বিবাদ চরমে উঠেছিল। সীমানার এ পারে বহু বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল। আহত হয়েছিল বহু মানুষ। সেই সময় কাছাড় প্রশাসনের তৈরি দু'টি স্কুলই রহস্যজনক বিস্ফোরণে উড়ে যায় গত বছরের অক্টোবরেই। সেই সময়েই দু'পারের সশস্ত্র বাহিনী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সেই সামান্য ঝগড়া গুরুতর হাতাহাতির চেহারা নেয়। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় বন্ধও হয়ে গিয়েছিল যান চলাচল। তারপর থেকেই গোটা এলাকায় ধিকিধিকি জ্বলছিল ক্ষোভের আগুন।












Click it and Unblock the Notifications