মাইক্রোস্কোপের নিচে 'ফিঙ্গার'! লাদাখ ইস্যুতে ভারত-চিন সেনা বৈঠকে নেওয়া হল কোন সিদ্ধান্ত?
পূর্ব লাদাখে, বিশেষত প্যাংগং এলাকা ও সংলগ্ন ফিঙ্গার এলাকায় শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে রবিবার সেনা স্তরে বৈঠকে বলে ভারত ও চিন। মূলত এলএসি বরাবর ফের সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চালু করার একটি রূপরেখা তৈরি করাই ছিল এই বৈঠকের লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, এই প্যাংগং এলাকা ঘিরেই এখন ভারত-চিন সংঘাত চরমে উঠেছে। আগের কথা মতো চিন এখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে না।

লাদাখে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের কড়া বার্তা
এর আগে লাদাখে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারত কড়া বার্তা দেয় চিনকে। সেই বার্তা হজম করতে চিনের তরফে দাবি জানিয়ে বলা হয়, 'বেশির ভাগ জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে চিন। পরবর্তী আলোচনার পর বাকি বিবাদমূলক স্থান থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হবে।' তবে চিনের এই দাবি যে পুরোপুরি মিথ্যা তা সঙ্গে সঙ্গে চিনের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভারত।

শান্তি ফেরাতে একাধিক পরিকল্পনা
গত ১৫ই জুন দুই দেশের জওয়ানদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর দুই দেশই জানিয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা একাধিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে। দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর বারংবার ডিসএনগেজমেন্টের কথা বলা হলেও চিনের দিক থেকে বিশেষ গতিবিধি নজরে পড়েনি বলেই জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। সেই আবহেই রবিবার ফের বৈঠকে বসে দুই দেশ।

চিন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে
হটস্প্রিং থেকে সরে গেলেও নাছোড়বান্দা চিন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে। লাদাখে ভারত-চিন উত্তেজনা কমার কোনও নাম নেই। যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে আঙুলের ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

আকসাই চিনে পিএলএ
তবে এরই মধ্যে আকসাই চিন এলাকায় পিএলএ-র তরফে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আর সেই হুমকি রুখতেই ভীষ্ম টি৯০ ট্যাঙ্কের এর একটি স্কোয়াড্রন, অর্থাৎ ১২টি ট্যাঙ্ক সেখানকার সীমান্ত রক্ষার লক্ষ্যে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় সেনা। এছাড়া ৪০০০ জন সৈনিকের একটি আস্ত ব্রিগেডও সেখানে ডিবিওতে মোতায়েন করেছে ভারত।

চিনের উপর ভারতের নজরদারি
উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছিল লাদাখে। চিনের তিন দফায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত। কোনও ভাবে যদি চিন সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে ভারতও থমকে যাবে। সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি যাতে কোনও ভাবে লঙ্ঘন না করা হয় সেদিকে নজর রাখছে ভারতীয় সেনা। এর জন্য দিনের পাশাপাশি রাতেও বায়ুসেনার বিমান এবং চিনুক ও অ্যাপাচে হেলিকপ্টর টহল দিচ্ছে লাদাখের সীমান্ত জুড়ে।

চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছে
যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে আঙুলের ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও। যদিও বর্তমানে চিনের দাবি লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গালওয়ান উপত্যকা,প্যাংগং লেক থেকেও সেনা প্রত্যাহার করেছে লালফৌজ।

ভারত-চিন সংঘাতের মূল কারণ
টহলদারী সীমান্ত নিয়ে বরাবরই ভারত ও চিনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। ভারত বিশ্বাস করে 'ফিঙ্গার ১' থেকে 'ফিঙ্গার ৮' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের এবং চিন মনে করে যে 'ফিঙ্গার ৮' থেকে 'ফিঙ্গার ৪' পর্যন্ত টহল দেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদেরই। ১৫ জুন, এই 'ফিঙ্গার ৪' এলাকাতেই উভয় পক্ষের সেনার মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ বাঁধে। পরে উভয় পক্ষের সীমানা যেখানে কয়েক হাজার ভারতীয় সৈন্যকে কাঁটাতারের সাথে জড়িত লাঠির মতো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। 'ফিঙ্গার ৪'-এ এই জন্যেই উল্লেখযোগ্য হারে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছিল চিন যাতে ভারতীয় সেনারা আর 'ফিঙ্গার ৮' এর দিক দিয়ে টহল দেওয়ার সুযোগ না পায়।












Click it and Unblock the Notifications