লিঙ্গ নির্ধারণের জের! ২০৩০ সালের মধ্যে কল্পনাতীত ভাবে কমে যেতে চলেছে কন্যা সন্তানের সংখ্যা
লিঙ্গ নির্ধারণের জেরে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮ লক্ষ কম কন্যা সন্তানের জন্ম হবে ভারতে
ভারতে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ইচ্ছাকৃত গর্ভপাতের ঘটনা। আর তার জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে সদ্যজাত কন্যা সন্তানের জন্মহার। সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে সদ্য প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এখনই এই বিষয়ে যথেষ্ঠ জনসচেতনতা তৈরি করা না গেলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে কন্যা সন্তানের জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পাবে।

৬৮ লক্ষ কম কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হবে দেশে
মূলত সিলেকটিভ অ্যাবরশন বা ইচ্ছাকৃত গর্ভপাতের কারণেই আগামী এক দশকের মধ্যে প্রায় ৬৮ লক্ষ কম কন্যা সন্তান ভারতে ভূমিষ্ঠ হবে বলে খবর। একইসাথে এই ক্ষেত্রে সর্বাধিক ভয়াবহ চিত্রের দেখা মিলতে চলেছে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে। পুত্র ও কন্যা সন্তানের জন্মহারের অনুপাতে সবথেকে ঘাটতি দেখা যাবে উত্তরপ্রদেশে।

১৯৭০ সালের পর থেকেই ভারতে বাড়ছে লিঙ্গভেদে ভারসাম্যহীনতা
সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কেএএসএসটি) এবং ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি ডি প্যারিসের গবেষকরা এই বিষয়ে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর বিষয়ে সামনে আনেন। ১৯৭০ সালের পর থেকেই ভারতে লিঙ্গভেদে ভারসাম্যহীনতা বেড়েই চলছে। প্রসবপূর্ব লিঙ্গ নির্ধারণকেই এই ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউনিসেফের রিপোর্টেও উদ্বেগ
এদিকে সাম্প্রতিককালে ইউনিসেফের রিপোর্টেও ভারতে কন্যা ভ্রুণ হত্যার বিষেয় যথেষ্ঠ উ্দেগ প্রকাশ করা হয়। এদিকে দেশের মাটিতে এই লাগামছাড়া কন্যা ভ্রুণ হত্যাকে অনেকেই গণহত্যার সঙ্গেও তুলনা টানছেন। হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি, গুজরাট, হিমাচলপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলিতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে গর্ভকালীন কন্যা ভ্রুণ হত্যা।

কন্যাভ্রুণ হত্যা বেড়েছে ৪৯.২ শতাংশ
শেষ আদমসুমারির তথ্য অনুযায়ী বর্তমান ভারতে প্রতি হাজার পুরুষের অনুপাতে ৮০০ বা তার কম নারী রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিছু কিছু রাজ্যে তার থেকেও কম। এদিকে সেন্টার ফর সোস্যাল রিসার্চের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে কয়েক বছরে কন্যাভ্রুণ হত্যা বেড়েছে ৪৯.২ শতাংশ। বর্তমানে ভারতে প্রতি ২৫টি কন্যাসন্তানের মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয় বলেও খবর।












Click it and Unblock the Notifications