উদ্বেগ বাড়িয়ে ভারতে খাদ্যশস্যের মজুত ৫ বছরে সর্বনিম্ন, রিপোর্ট FCI-এর
উদ্বেগ বাড়িয়ে ভারতে খাদ্যশষ্যের মজুদ ৫ বছরে সর্বনিম্ন, রিপোর্ট FCI-এর
ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে গত পাঁচ বছরে ধান ও গম মজুদের পরিমাণ সর্বনিম্ন। তথ্যে জানানো হয়েছে, শীতকালে বপন করা গম ও গ্রীষ্মকালে বপন করা ধানের মজুদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে চালের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে গমের চাহিদা মিটবে কি না, সেই বিষয়ে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া সন্দেহ প্রকাশ করেছে। যার জেরে খাদ্যপণ্যগুলোর দাম গত ২২ মাসে সর্বোচ্চ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১৪ বছরে গমের মজুদ সর্বনিম্ন
ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার তরফে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চালের যা মজুদ রয়েছে, তা দেশের অভ্যন্তরের চাহদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু গমের মজুদের পরিমাণ খুব কম। গত ১৪ বছরে গমের মজুদের পরিমাণ সর্বনিম্ন। এফসিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, গমের মজুদের কারণ হল ইউক্রেনে যুদ্ধ। ইউক্রেনে যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে গমের চাহিদা বেড়ে যায়। কৃষকরা বেসরকারি ব্যবসায়ীদের গম বিক্রি করে। ব্যবসায়ীরা উচ্চ দামে তা বিদেশে রফতানি করে। প্রাথমিকভাবে এই কারণেই গমের মজুদের পরিমাণ এতটা কমে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাপপ্রবাহের জেরে গম চাষের ক্ষতি
চলতি বছর মার্চ মাস থেকেই দেশের একাধিক জায়গায় তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গম চাষ। গম চাষের ক্ষতি হওয়ার কারণে মে মাস থেকেই সরকার বিদেশে রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত মাসে সরকার ভাঙা চালের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ভাঙা চালের চাহিদা বেশি। অন্যান্য চালের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপ করেছে।

দেশে ক্রমেই বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি
দেশে মুদ্রাস্ফীতি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেপ্টেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৪১ শতাংশ। গত পাঁচ মাসে এটাই সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি। যেখানে অগাস্ট মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ৪ থেকে ৬ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। কিন্তু টানা নয় মাস দেশে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের বেশি যা যথেষ্ঠ উদ্বেগের কারণ। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরবিআই একধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও কঠোর পদক্ষেপ আরবিআই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

খাদ্যপণ্যের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব
ক্রমাগত খাদ্যপণ্য যেমন ডাল, শাকসবজি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের ওপর মুদ্রাস্ফীতি ২২ মাসে সর্বোচ্চ হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের ওপর মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৮.৪ শতাংশ। অক্টোবরের মাঝামাঝি হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি। ক্রমেই মুদ্রাস্ফীতি আরবিআইয়ের কাছে জটিল হয়ে উঠছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গ্রুপ প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সৌম্য কান্তি ঘোষ বলেছেন, খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিতে সবজির ফলন কম হয়েছে। যার জেরে দাম অনেকটাই বেড়েছে। যার প্রভাব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে না এমন সবজি চাষে পড়বে বলে তিনি মনে করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications