ভুয়ো কোভিড টিকাকরণ শংসাপত্র টেলিগ্রামে পাওয়া যাচ্ছে ৫ হাজারে, ফাঁদে পড়েছেন বহু ভারতীয়
ভুয়ো কোভিড টিকাকরণ শংসাপত্র টেলিগ্রামে পাওয়া যাচ্ছে ৫ হাজারে, ফাঁদে পড়েছেন বহু ভারতীয়
ভারত সহ ২৯টি দেশের ভুয়ো করেনার টেস্ট রেজাল্ট ও ভুয়ো কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনের শংসাপত্র বিক্রি হচ্ছে টেলিগ্রামে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে চেক পয়েন্ট রিসার্চ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জন্য ভুয়ো টিকাকরণের শংসাপত্র টেলিগ্রামে পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রত্যেকটির মূল্য ৭৫ মার্কিন ডলার (৫,৫২০ টাকা)। চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার প্রযুক্তির প্রধান ওডেড ভানুনু জানিয়েছেন যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা ভ্যাকসিন নেবেন না অথচ সব ধরনের স্বাধীনতা চান তাঁরাই টিকাকরণের বদলে এই ভুয়ো শংসাপত্র নিতে এখানে হাজির হন।

জাল ভ্যাকসিনেশন কার্ডের দাম কমেছে
তিনি এও বলেন, 'এই ধরনের মানুষরা ডার্কনেট ও টেলিগ্রামের দিকে ঝুঁকছে। ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে জাল ভ্যাকসিনেশন কার্ডের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং এই প্রতারকরা করোনা ভাইরাস পরিষেবার জন্য অনলাইন গ্রুপগুলিতে লক্ষ লক্ষ লোকদের অনুসরণ করে।' ভানুনু এও বলেন, 'এই ধরনের বিক্রেতার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করব কারণ এই বিক্রেতারা আপনাদের শুধুমাত্র ভুয়ো টিকাকরণের কার্ড বিক্রি করবে।' প্রসঙ্গত, ভারতে কোভিড-১৯ মহামারির জেরে একাধিক রাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক কিছু নিয়ম জারি করেছে যাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে না পরে, বিশেষ করে যাঁরা আন্তঃরাজ্য সফর করবেন সড়ক পথ বা আকাশ পথে তাঁদের ক্ষেত্রে। যাত্রীদের কোভিড-১৯ টেস্টের নেগেটিভ রেজাল্ট (আরটি-পিসিআর রিপোর্ট) বা টিকাকরণের শংসাপত্র প্রয়োজন অন্য রাজ্যে যেতে গেলে।

টিকা নিতে ইচ্ছুক নয় তাদের জন্য এই ফাঁদ
চেক পয়েন্ট রিসার্চ (সিপিআর) তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে গতিবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলীর ফলে যারা টিকা নিতে ইচ্ছুক নয় তাদের জন্য কালো বাজারে ভুয়ো টেস্ট রেজাল্ট ও ভ্যাকসিন শংসাপত্রের চাহিদা উপলব্ধ রয়েছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে, ডার্কনেটে বেশিরভাগ নকল করোনা ভাইরাস সার্টিফিকেটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এখন সিপিআর দেখতে পাচ্ছে যে টেলিগ্রামেও এই ধরনের কালো বাজারি কার্যকলাপ ছেয়ে গিয়েছ। সিপিআর সন্দেহ করছে যে টেলিগ্রামে স্থানান্তরের কারণ হল বিক্রেতাদের বিতরণের প্রচেষ্টার মার্জিনকে বাড়ানো, আরও বেশি সংখ্যায় গ্রাহকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোতে সহায়তা করবে।'

ভুয়ো নথি বিক্রি হয়েছে টেলিগ্রামে
সিপিআর দ্বারা চিহ্নিত বিজ্ঞাপনগুলি বিশেষভাবে 'যারা ভ্যাকসিন নিতে চান না' তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, 'মার্চ থেকে, সিপিআর দ্বারা চিহ্নিত করা পাঁচ হাজারের বেশি টেলিগ্রাম গ্রুপে এই ভুয়ো নথি বিক্রি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী, টেলিগ্রাম ১ বিলিয়নেরও বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে, এবং ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার টেলিগ্রামের।' যদিও এ বিষয়ে টেলিগ্রাম থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভুয়ো বিজ্ঞাপন কি বলছে
রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, 'আমরা এই বিষাক্ত টিকা থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে এসেছি।' রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনগুলি তাদের পণ্যের সুবিধা হিসাবে ভ্রমণ এবং অবাধে কাজ করার ক্ষমতাকে তুলে ধরেছিল। বিক্রেতারা অধিকাংশই পেপল ও ক্রিপটোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন করছিল। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্টিম, অ্যামাজন ও ইবে গিফট কার্ডও গ্রহণ করেছে বিক্রেতারা। বিক্রেতারা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করেছে।
খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia












Click it and Unblock the Notifications