৩০০ নয়, বালাকোট হামলায় মৃত্যু ডজনের বেশি জঙ্গির! দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের
বিরোধীরা দেশে বালাকোটে হামলা নিয়ে যতই প্রমাণের দাবি তুলুন না কেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছে সেই হামলায় বেশ কিছু জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল।
বিরোধীরা দেশে বালাকোটে হামলা নিয়ে যতই প্রমাণের দাবি তুলুন না কেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছে সেই হামলায় বেশ কিছু জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল। মৃতের তালিকায় প্রাক্তন আইএসআই এজেন্ট থেকে শুরু করে প্রাক্তন পাক সেনার সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, হামলার বেশ কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে অন্তত ৩৫ টি দেহ সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। একই চালার তলায় ঘুমিয়ে থাকা ১২ জন এই তালিকায় রয়েছে। এই ছাড়াও তালিকায় বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পাক সেনার সদস্যও রয়েছেন। এই তথ্য সামনে এসেছে স্থানীয় সরকারের কর্মীদের কাছ থেকে। যদিও এই বক্তব্য যাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের বলার কোনও রকম অধিকারই নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বোমা বর্ষণের পরেই স্থানীয় সরকারের তরফ থেকে সেখানে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সেই এলাকা ঘিরে ফেলেছিল পাক সেনাবাহিনী। আর পুলিশকে সেখানে ঢোকার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। এছাড়াও সেনার তরফ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী এবং অ্যাম্বুল্যান্সের কাছ থেকে
মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারির ভারতীয় বায়ুসেনার হানায় প্রাক্তন আইএসআই অফিসার, স্থানীয় পর্যায়ে যার নাম, কর্নেল সালিম, তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে কর্নেল জারার জাকরি নামে অপর একজন আহত হয়েছেন। বোমার ঘায়ে মারা গিয়েছেন, মুফতি মইন নামে পেশোয়ারের এক জইশ নির্দেশক এবং বোমা বিশেষজ্ঞ
উসমান গনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, মৃতদের তালিকায় ১২ জইশ আত্মঘাতী ট্রেনি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। যারা কিনা একটি ঘরের মধ্যেই ছিল।
যদিও এনিয়ে বিরোধী বক্তব্যও রয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের। সেখানে কোনও জইশ জঙ্গি ছিল না। এমন কি আহত এবং মৃতের সংখ্যা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে,
অনেক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, হামলায় সাধারণ কয়েকজন বাসিন্দার সামান্য আঘাত লেগেছে।
স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট বলেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির সেরকম কোনও ছবি পাওয়া যায়নি। ফলে তা ভারতের দাবিকে সমর্থন করে না বলেও জানানো হয়েছে।
যদিও ভারতীয় বিমান বাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, চারটি বড় টার্গেট তারা ধ্বংস করেছে। যেখানে জইশ-এর বেশ কিছু ভবনও ছিল। ইসলামাবাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতের হামলায় খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। তবে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, উসমান ও কর্নেল সালিম নামে দুজনের মৃত্যুর খবর উঠে আসছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১ মার্চের বৈঠকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে ৫ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকায় ২০ জনের মৃত্যুর খবরও জানানো হয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর তরফে বালাকোটের জাবা টপকে টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন, বোম টার্গেটে আঘাত করেছে। কিন্তু সংখ্যা নিয়ে কোনও কোনও মিডিয়ায় বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications