নেপালে বন্যায় ওয়েনাড়ের মতো বিপর্যয়, বিজ্ঞানীদের নজর ভারতে
ভারতের উত্তরের প্রতিবেশী নেপালে ওয়েনাড়ের মতো বিপর্যয়। একটি হিমবাহ লেকের বিস্ফোরণে বিখ্যাত শেরপা গ্রাম থেমেতে আকস্মিক বন্যা। প্রসঙ্গত থেম হল এভারেস্টে প্রথম আরোহনকারী তেনজিং নোরগের গ্রাম। তেনজিং নোরগে ১৯৫৩ সালে অ্যাডমন্ড হিলারির সঙ্গে প্রথম এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গ্রামের অর্ধেকের বেশি বাড়ি মাটি চাপা পড়ে গিয়েছে। জলের ব্যাপক প্রবাহ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওগুলিতে ভয়ঙ্কর ও ভীতিকর। এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু বাড়ি ও হোটেল ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আরও বেশ কয়েকটি বাড়ির অবস্থা খারাপ। সরকারের তরফে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে।

নদীতে জল বেড়েছে
নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির কারণে বিপর্যয়। হিমবাহ লেকের বিস্ফোরণের কারণে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে নদীর আরেকটি শাখা দুধকোশী নদী প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে নিচু এলাকা থেকে সরে যেতে নির্দেস দেওয়া হয়েছে।
থেংবো হিমবাহ থেকে বিপর্যয়
জানা গিয়েছে থেংবো হিমবাহে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছিল। সেটি ভাঙনের ফলেই এই বিপর্যয়। যে কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। থেংবো হিমবাহের পাশেই রয়েছে তাশি লাপচা পাস।
থেমে গ্রামটি খুম্বু উপত্যকায় ১২৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখান থেকেই এভারেস্ট যাত্রার শেষ ধাপ শুরু হয়।
টানা কয়েকঘন্টা প্রবল বৃষ্টি
অন্য আরেকরটি খবরে বলা হয়েছে হিমাবাহ হ্রদের বিস্ফোরণ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সেখানে টাকা কয়েকঘন্টা ধরে প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল। তারপরেই এই বিপর্যয় ঘটে।
প্রশাসনের সতর্কতা জারি
প্রশাসনের তরফে নিচু আবাসিক এলাকাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদ থেকে জল দ্রুত নিচু এলাকার দিকে যাচ্ছে।
হিমালয়ে কমছে ঠাণ্ডা
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ঠান্ডা দিনের পর দিন কমছে। অন্যদিকে গরমের দিন বাড়ছে। গত ত্রিশ বছরে ঠাণ্ডার দিন দুই থেকে ছয় শতাংশ কমেছে। জম্মু-কাশ্মীর হোক কিংবা হিমাচল প্রদেশ, সব জায়গাতেই একই পরিস্থিতি।
তবে হিমবাহ গলে যাওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ছাড়াও একটানা বৃষ্টিতেও হিমবাহ গলে যায়।
নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা হিমালয়ের অনেক হিমবাহের ওপরে নজর রাখছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিমবাহগুলি হল গঙ্গোত্রী, চোরোবাড়ি, দুনাগিরি, ডোকরানি ও পিন্ডারি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত কয়েক দশকে হিমবাহ গলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে হিমবাহগুলির ৪০ শতাংশ হারিয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications