বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধাক্কা! কর্নাটকে বিজেপি ত্যাগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর, কংগ্রেসে যোগদান জল্পনা তুঙ্গে
বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে বিজেপি ত্যাগের পরে কর্নাটক বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার। যা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্য বিজেপি। সোমবার তাঁর কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনাও তৈরি হয়েছে।
হুবলি-ধারওয়াড সেন্ট্রাল আসন থেকে ছয়বারের বিধায়ক শেট্টার এবারও এই আসন থেকে টিকিটের প্রত্যাশী ছিলেন। বিজেপি এখনও যে ১২ টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি, সেই তালিকায় রয়েছে হুবলি-ধারওয়াড সেন্ট্রালও। জানা গিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, টিকিট না দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। যা তাঁর কাছে পরিষ্কার হওয়ার পরেই বিজেপিকে হুঁশিয়ারিও দেন।

এদিন শেট্টার উত্তরা কানাডা জেলার সিরসিতে পৌঁছে বিধানসভা থেকে পদত্যাগের চিঠি তুলে দেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বেশ্বর হেগডে কাগেরির হাতে। প্রসঙ্গত তিনিও একজন বিজেপি নেতা। এর আগে তিনি হুবলিতে করা সাংবাদিক সম্মেলনে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন।
শেট্টার বলেছেন, তিনি বিধানসভা এবং বিজেপি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যে বিজেপিকে গড়ে তোলার পিছনে নিজের অবদানের কথা তিনি তুলে ধরেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কিছু নেতার ষড়যন্ত্রের কারণে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্বাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা লিঙ্গায়েত নেতার মান ভাঙানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি দল না ছাড়তেও অনুরোধ করে। কিন্তু জগদীশ শেট্টার নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বলে জানা গিয়েছে। হুবলি-ধারওয়াড সেন্ট্রাল আসন থেকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
জগদীশ শেট্টারের এই দল ছাড়ার ঘটনা নির্বাচনের সামনে বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে সেখানকার রাজনৈতিক মহল। কেননা তিনি উত্তর কর্নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। শেট্টাটের আগে টিকিট না পেয়ে প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মণ সাভাডি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

কর্নাটকের বর্ষীয়ান এই নেতা আগেই বলেছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি তাঁকে টিকিট না দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রভাব উত্তর কর্নাটকের ২০ থেকে ২৫ টি আসনে পড়বে।
বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে শেট্টারকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে তরুণদের জন্য নিজের আসন ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। তাঁকে রাজ্যপালের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। যদিও এর কোনও কিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি।












Click it and Unblock the Notifications