বিধানসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটক বিজেপিতে ধাক্কা! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যোগ দিলেন কংগ্রেসে
শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে যোগ দিলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা জগদীশ শেট্টার। এদিন তিনি বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস সভফাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন। কংগ্রেসে যোগদানের পরে তিনি রাজ্যে কংগ্রেসের দ্বিতীয় নেতা হয়ে উঠলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেয় হুবলি ধারওয়াড সেন্ট্রাল আসন থেকে ছয়বারের বিধায়ক জগদীশ শেট্টারকে প্রার্থী করা হবে না। তারপরেই রবিবার তিনি বিধানসভা সদস্য পদে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপি ত্যাগ করার কথা জানান। তার পরের দিন তিনি কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

এদিন কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে জগদীশ শেট্টার জানিয়েছেন, কংগ্রেসের ডিকে শিবকুমার, সিদ্দারামাইয়া, রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং এমবি পাতিলের মতো নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, তাঁরা আমন্ত্রণ জানানোর পরে এক সেকেন্ডও দেরি করেননি কংগ্রেসে যোগ দিতে।
এদিন শেট্টারের কংগ্রেসে যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং সিনিয়র কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা।
যোগদান অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, শেট্টার একজন অবিতর্কিত ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। তিনি এমনু একজন ব্যক্তি যে শুধু একাই জয়ী হন না, তিনি অনেক বেশি আসন জেতাতে সাহায্য করে থাকেন।

জগদীশ শেট্টার বলেছে, বিজেপি তাঁকে টিকিট না দিয়ে আপমান করেছে। যে দল তিনি তৈরি করেছিলেন, সেখান থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নীতি ও আদর্শ মেনে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই লিঙ্গায়েত নেতার অভিযোগ শাসকদল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।
এর আগে রবিবার বিধায়ক পদ এবং বিজেপি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে টুইট করে শেট্টার বলেছিলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় তিনি বিরক্ত। তবে জনগণের ভাসবাসা এবং আশীর্বাদ তাঁর সঙ্গে থাকবে বলেই মনে করেন তিনি।

লিঙ্কায়েত নেতা জগদীশ শেট্টার বিজেপি ত্যাগ করায় গেরুয়া শিবির উত্তর কর্নাটকে ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রসঙ্গত এর আগে আরও এক লিঙ্গায়েত নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মণ সাভাদিও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও শেট্টার বলেছিলেন, তাঁকে বিজেপির টিকিট না দেওয়ার প্রভাব অন্তত ২০ থেকে ২৫ টি আসনে পড়বে।
প্রবীণ নেতা শেট্টার যাতে চূড়ান্ত কোনও পদক্ষেপ না নেন, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্বাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেট্টার হুবলি-ধারওয়াড সেন্ট্রাল আসন থেকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে অনড় থাকেন।












Click it and Unblock the Notifications