সময় সফরে বাজেট বিবর্তন, অর্থখাতের সেকাল ও একাল
বাজেট বিবর্তন
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যেভাবে বাজেট পেশ হয়েছে তার সঙ্গে এখনকার বাজেটে বদল হয়েছে আকাশ পাতাল। স্বাধীন ভারতে সর্বপ্রথম বাজেট ১৯৪৭ সালের ২৬ নভেম্বর পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আর কে সনমুখম চেট্টি। কিন্তুসেই বাজেট থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্বাধীন ভারতের বাজেট সম্পূর্ণ রূপে ব্রিটিশ ছত্রছায়া থেকে বেরোতে পারেনি। তবে বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ অন্য। কেমন চালচিত্রে ধরা দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটের সেকাল ও একাল? একটু টাইম ট্রাভেল করা যাক।

বাজেটের সেকাল
১৯৪৭ সালের ২৫ অগাস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চের বাজেট হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের প্রথম বাজেট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭১.১৫ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আর কে সনমুখম চেট্টি দেশের সার্বিক সুরক্ষার দিকে জোর দিতেই এই পদক্ষেপ নেন বলে মনে করা হয়।

বাজেটের মুদ্রণ
১৯৫০ সাল পর্যন্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজেট সংক্রান্ত নথি রাষ্ট্রপতি ভবনে ছাপা হত। পরে বিশেষ কারণে সরকারকে তা মিন্টো রোডে একটি সরকারী প্রেসে স্থানান্তর করতে হয়। সেই ব্যবস্থা ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলেছিল ৷ ১৯৮০ সালের পর থেকে নর্থ ব্লকের একটি বেসমেন্টে বাজেট পেপার মুদ্রণ শুরু করা হয়। অবশ্য বর্তমানে ডিজিটালাইজেশনের যুগ। তার উপর থাবা বসিয়েছে করাল করোনা। সেই কারণে বর্তমানে পেশ করা হচ্ছে নো পেপার বাজেট। অর্থাৎ ডিজিটাল বাজেট।

বাজেট পেশের সময় সফর
১৯৪৭-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কাজের দিনে বাজেট পেশ করা হত। বাজেট পেশের সময় ছিল বিকেল পাঁচটা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সময় মেনে এই বাজেট পেশ হত। এই সময়সীমার পরিবর্তন হয় অটল বিহারি বাজপেয়ির আমলে। তাঁর অধীনে এনডিএ সরকারের আমলে পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা দুপুর ১১ টায় বাজেট পেশ করেছিলেন। সেই সময় বলা হয়েছিল, ব্রিটিশ নিয়ম মেনে নয়, সম্পূর্ণ দেশীয় নিয়ম মেনে পেশ হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। তারপর থেকে ওই সময় মেনে চলছে বাজেট পেশ।

কেন্দ্রীয় ও রেল বাজেট একত্রে
২০১৬ সাল পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কাজের দিনেই প্রকাশ করা হতো কেন্দ্রীয় বাজেট। তার পরের বছর ২০১৭ থেকে এসেই দিনক্ষণ বদলে ফেলা হয়। ২০১৭ সালে ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।পাশাপাশি ওই বছর থেকে সাধারণ বাজেটের সঙ্গে রেল বাজেটকে মিশিয়ে দিয়ে সাধারণ বাজেট পেশ করা শুরু হয় ৷২০১৬ সালের পর থেকে আলাদা কোরিয়ার রেল বাজেট পেশ হয়নি। এই সময় থেকেই বদলে ফেলা হয়েছে দীর্ঘ ৯২ বছরের নিয়ম।

ব্রিফকেস থেকে ডিজিটাল বাজেটের বিবর্তন
১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জেমস উইলসন। তাঁর হাতে ছিল 'গ্ল্যাডস্টোন বক্স'। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীও পার্লামেন্টে এই ব্যাগ নিয়েই বাজেট পেশ করতে যেতেন। সেই ধারাই চলে এসেছিল ভারতে। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রীর হাতে দেখতে পাওয়া যেত ব্রিফকেস। তার মধ্যেই থাকতো বহিখাতা তথা বাজেটের নথি। একেক সময় একেক রকমের ব্রিফকেসের রং হত। তারপর বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে দীর্ঘদিনের ট্র্যাডিশন ভাঙতে দেখা যায় ২০১৯ সালে। তিনি সে বছর ব্রিফকেসের বদলে লাল শালুতে বহিখাতা মুড়ে এনেছিলেন। যদিও ২০২১ সাল থেকে বহিখাতার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বহিখাতার পরিবর্তে হাতে থাকছে ট্যাব। ব্রিফকেস আনার ঐতিহ্য ব্রিটেন থেকে অনুকরণ করা হয়েছিল। ব্রিটেনের সমস্ত ধরনধারণ ভারতীয় কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে সরিয়ে ফেলতে এই নিয়ম। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি সরকার পেপারলেস কাজের ওপর জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে স্পর্শ এড়াতেই ডিজিটাল মাধ্যমে বাজেট পেশকে হাতিয়ার করেছে সরকার।












Click it and Unblock the Notifications