উত্তরপ্রদেশে নাম্বার প্লেটহীন গাড়ি থেকে উদ্ধার ইভিএম মেশিন
সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা একটি পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) খুঁজে পেলেন। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের কাইরানায় নম্বর প্লেটবিহীন একটি গাড়িতে সেটি তাঁরা দেখতে পান। ঘটনা হল, বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যে ৫৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল তার মধ্যে একটি ছিল কাইরানা।

যে গাড়িতে ইভিএম পাওয়া গিয়েছে, তাতে জোনাল ম্যাজিস্ট্রেট-কৈরানা আসনের স্টিকার লাগানো ছিল। গাড়িটি শামলি-পানিপথ মহাসড়কে খুঁজে পেয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা যারা স্থানীয় এসডিএমের সঙ্গে ছিলেন।পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ইভিএম খোলা হয়, যিনি বলেন করেন যে এটি নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করা হয়েছে।এদিকে করোনা পরিস্থিতির জন্য উত্তরপ্রদেশে ভোট হলেও বড় রোড শো করতে দেওয়া হচ্ছে না। বেশি হচ্ছে ডোর টু ডোর প্রচার। ভার্চুয়াল প্রচারও হচ্ছে। এই নিয়মের বিরুদ্ধাচারণ করায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মামলা দায়ের করল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। মোরাদাবাদে কংগ্রেস নেতা রিজওয়ান কুরেশির ডোর টু ডোর প্রচার বিশাল রোডশোর আকার নেয়। এর জন্য উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কুরেশি, যিনি মোরাদাবাদ থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী, বৃহস্পতিবার দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারণা করছিলেন।
পুলিশের দাবী, প্রচার ডোর টু ডোর ক্যাম্পেনের অবস্থায় ছিল না। সেটি একটি রোডশোর আকার নিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেস প্রার্থী রিজওয়ান ডোর-টু-ডোর প্রচারের অনুমতি নিয়েছিলেন তবে দেখা গিয়েছে যে তাঁর সঙ্গে যে পরিমান লোকজনের এসেছিল তা রোডশোর আকার নিয়েছিল। সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযোগ অনুসারে, একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার (এসপি) অখিলেশ ভাদোরিয়া এমনটাই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী রিজওয়ান বলছেন যে কেন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতাদের বিরুদ্ধেও এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি?তিনি বলেন, "উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা কয়েকদিন আগে ঘরে ঘরে বৈঠক করেছিলেন। মিরাটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন করেছিলেন, কেন তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নেই? মানুষ আমাদের স্বাগত জানালে আমাদের দোষ নয়। বিজেপি ভয় পেয়েছে, তাই এই নোংরা রাজনীতি হচ্ছে'।
উত্তরপ্রদেশে সাত দফা বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি। রাজ্য বিধানসভার জন্য দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ ১৪ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় দফায় সাহারানপুর, বিজনোর, আমরোহা, সম্বল, মোরাদাবাদ, রামপুর, বেরেলি, বুদাউন এবং শাহজাহানপুরের নয়টি জেলাকে কভার করে মোট ৫৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। প্রথম দফায় ওই রাজ্যের ১১টি জেলার ৫৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২৩। প্রথম দফায় নির্বাচনে ১৫৬ জন প্রার্থী ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রয়েছে। প্রথম দফা নির্বাচনে রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীরও ভাগ্য পরীক্ষা হচ্ছে। ৫ টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৫৭.৭৯%।যে জেলাগুলিতে নির্বাচন হয় সেগুলি হল শামলি, হাপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মুজাফফরনগর, মিরাট , বাগপত, গাজিয়াবাদ, বুলন্দশহর, আলিগড়, মথুরা এবং আগ্রা। ক্ষমতাসীন বিজেপি জাট সম্প্রদায়ের ১৭ জনকে প্রার্থী করেছে, আরএলডি'র রয়েছে ১২ জন জাট প্রার্থী এবং সপা ছয়জন জাট প্রার্থী দিয়েছে। বর্তমানে প্রত্যাহারকৃত খামার আইন নিয়ে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে; আখের বকেয়া পরিশোধের মতো সমস্যাও চাপে রেখেছে শাসক দলকে।












Click it and Unblock the Notifications