যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি চাপ, রান্নার গ্যাস সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার কেন্দ্রের
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশের গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের জোগান যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে তৎপর হল কেন্দ্রীয় সরকার। এলপিজি সিলিন্ডার, সিএনজি ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস এই তিন খাতকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের গ্যাস আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানি করা গ্যাস অগ্রাধিকারহীন খাত থেকে সরিয়ে জরুরি পরিষেবা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীদের দিকে সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

ভারতে প্রতিদিন প্রায় ১৯১ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই আমদানি নির্ভর। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাসের জোগান থমকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র নতুন করে গ্যাস বণ্টনের অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করেছে।
নতুন ব্যবস্থায় এলপিজি উৎপাদন, সিএনজি ও পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস (পিএনজি) এর চাহিদা শতভাগ মেটানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের চাহিদার ৮০ শতাংশ ও সার কারখানাগুলির ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এর পরের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদন খাত ও অন্যান্য শিল্পগ্রাহক যাদের গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস দেওয়া হবে। আর শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহকারী সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলিকে রাখা হয়েছে চতুর্থ স্থানে।
তেল মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যাস বরাদ্দের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, কারণ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এলপিজি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।"
উল্লেখ্য, এলপিজি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ও অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সময় উৎপন্ন একটি উপজাত। প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসকে আলাদা করে বিশুদ্ধ করার পর তা চাপ প্রয়োগ করে তরল অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যাতে সহজে পরিবহণ ও ব্যবহার করা যায়। সাধারণত বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত ইস্পাত সিলিন্ডারে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে এলএনজি বিক্রির বিদ্যমান বাণিজ্যিক চুক্তিগুলিও সাময়িক ভাবে অগ্রাহ্য করে এই অগ্রাধিকারভিত্তিক বণ্টন কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে তেল শোধনাগারগুলিকে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন সাময়িক স্থগিত রেখে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে গ্যাস উৎপাদনে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেল (গ্যাস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড) কে এই নতুন অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের চুক্তিগুলি আবার কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।












Click it and Unblock the Notifications