ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার শেষে ইস্যু নির্বাচনী বন্ড ও ইভিএম! মুম্বইয়ের বিরোধী মঞ্চে অনুপস্থিত CPIM-CPI
রবিবার মুম্বইয়ে শেষ হল দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। এদিন সকালে রাহুল গান্ধী দক্ষিণ মুম্বইয়ে মহাত্মা গান্ধীর বাড়ি মণি ভবন থেকে ন্যায় সংকল্প যাত্রা বের করেন। সেখানে অংশ নেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী।
ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার শেষে হওয়া ইন্ডিয়া ব্লকের সভায় উঠে আসে নির্বাচনী বন্ড ও ইভিএম প্রসঙ্গ। রাহুল গান্ধী বলেন, ভারত যদি ভালবাসার দেশ হয়, তাহলে কেন ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে? তিনি বলেন, বিজেপি ঘৃণা ছড়ায়, কিন্তু এই ঘৃণার কিছু ভিত্তি থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, এদেশে দরিদ্র, কৃষক, দলিত, নারী ও যুবকদের প্রতি প্রতিদিন অবিচার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, রাজা কি আত্মা ইভিএম মে হ্যায়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একটি মুখোশ আর তাঁর ৫৬ ইঞ্চি ছাতিও ফাঁপা। অনুষ্ঠানে অন্য বিরোধী নেতারা বিজেপিকে বিভিন্ন ইস্যুতে নিশানা করেন।

এদিকে যখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন নির্বাচনী বন্ডকে ইস্যু করেন, সেই সময় ফারুক আবদুল্লা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমকে স্ট্যালিন বলেন, নির্বাচনী বন্ড হল বিজেপির হোয়াইট কলার দুর্নীতি। এমকে স্ট্যালিন বলেন, মুম্বইয়ে তিনি ভাই রাহুলকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। ভারতের জন্য ঐক্য দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইন্ডিয়া ব্লককে আক্রমণ করতে প্রধানমন্ত্রী অনেক নিচে নেমেছেন। নির্বাচনী বন্ড বিজেপির দুর্নীতিকে প্রমাণ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপিকে ভারতের জন্য সব থেকে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করে স্ট্যালিন সবার কাছে ভারতকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা রাহুল গান্ধী কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর এবং মণিপুর থেকে মুম্বই যাত্রার প্রশংসা করেন। বিজেপিকে নিশানা করতে গিয়ে তিনি ইভিএমকেও ইস্যু করেন। তিনি বলেন, সবার ভোট কোথায় যাচ্ছে তা দেখার জন্য অনুগ্রহ করে মেশিনে চোখ রাখতে হবে। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া ব্লক ক্ষমতায় আসলে, এই মেশিন বাতিল করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনকেও স্বাধীন করে দেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলপিজির পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানো হয়েছে বলেও দাবি করে ফারুক আবদুল্লা।
এদিন বামদলগুলির মধ্যে একমাত্র উপস্থিতি ছিল সিপিআইএমএল-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের। সেখানে সিপিআইএম কিংবা সিপিআই-এর কোনও শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি। সিপিআইএমের তরফে দলের সাধারণ সম্পাদকের ত্রিপুরায় এবং সিপিআইএ-র তরফে দলের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার দিল্লিতে থাকার কথা জানানো হয়েছে।
দুই বামদল সূত্রে খবর, বিভিন্ন রাজ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের মনোভাবে ক্ষুব্ধ তারা। কংগ্রেস কোনও রাজ্যে সিপিআই কিংবা সিপিআইএমকে একটি-দুটি আসনও ছাড়তে চাইছে না। তবে এদিনের অনুপস্থিতি ইন্ডিয়া ব্লকের কোনও ফাটল নয় বলেও মন্তব্য করেছে দুই বাম দল।












Click it and Unblock the Notifications