৩০ বছরে খসেছে ৩০ লক্ষ টাকা, তবু অদম্য 'ইলেকশন কিং'! জিতেই ভোটে নামছেন রাহুলের বিরুদ্ধে
লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এ ওয়ানাড় থেকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়বেন 'ইলেকশন কিং' কে পদ্মরাজন। তাঁর সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিন।
লোক সভা ভোটের জয় পরাজয়ের হিসেব নিয়ে সব প্রার্থীরাই যখন কম-বেশি উদ্বিগ্ন তখন একেবারে নিশ্চিন্ত 'ইলেকশন কিং' কে পদ্মরাজন। ভোটে লড়ার আগেই যে জিতে গিয়েছেন তামিলনাড়ুর সালেমের এই টায়ার-ব্যবসায়ী। লিমকা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ সবচেয়ে অসফল ভোটপ্রার্থী হিসেবে নাম তোলা পদ্মরাজন এবার লড়ছেন ওয়ানাড়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিপক্ষে।
এমনিতেই সিপিএম-এর বিরুদ্ধে রাহুল প্রার্থী হওয়ায় ওয়ানাড় কেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তার মধ্যে ইলেকশন কিং-এর আগমনে আরও রঙিন হল এই কেন্দ্রের লড়াই। সোমবার তিনি ২০১তম নির্বাচনী মনোনয়নপত্র জমা করেছেন এই কেন্দ্রে। এছাড়া আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তিনি তামিলনাড়ুর ধর্মপুরিতে পিএমকে প্রার্থী ডা. আন্বুমানি রামাডসের বিরুদ্ধেও প্রার্থী হয়েছেন।
জেনে নেওয়া যাক এই অদ্ভুত ভোট-চরিত্রটি সম্পর্কে -

পদ্মরাজনের বিশ্বরেকর্ড
১৯৮৮ সালে মেট্টুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে লোকসভা, বিধানসভা মিলিয়ে মোট ১৯৯বার নির্বাচনে লড়েছেন তিনি। একবারও জয় আসেনি। আর এরফলে ২০০৪ সালেই গিনেস বুকে সবচেয়ে অসফল প্রার্থী হিসেবে নাম ওঠে তাঁর। ২০১৫ সালে গিনেস কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটেও নাম তোলা হয় তাঁর। সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন ২০১১ সালে, মেট্টুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই, ৬,২৭৩টি।

তাঁর জন্য নিয়ম বদল
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ দুটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়া যায়। ১৯৯৬ সালের আগে কিন্তু এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। সেই বছর একই সঙ্গে তিনি পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্র ও তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। এরপরই এই বিষয়ে নিয়ম করতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন।

তারকা প্রতিদ্বন্দ্বী
গত ত্রিশ বছর ধরে বহু তারকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়েছেন পদ্মরাজন। তার জন্য বিপদেও পড়তে হয়েছে। ১৯৯১ সালে তখনরকার প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও-এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পর একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে অপহরণও করেছিল। তাঁর অন্যান্য তারকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন, তামিলনাড়ুর করুণানিধি, জয়ললিতা, তামিলনাড়ুর এসএম কৃষ্ণ, বঙ্গরাপ্পা, এইচডি কুমারস্বামী, সদানন্দ গৌড়া, জগদীশ সেত্তর প্রমুখ।

৩০ বছরে খসেছে ৩০ লাখ, তবু কেন
পদ্মরাজন নিজেই জানিয়েছেন গত ত্রিশ বছর ধরে নির্বাচনে দাঁড়াতে গিয়ে তাঁর পকেট থেকে ৩০ লক্ষেরও বেশি অর্থ বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাও তিনি ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়ে অদম্য। রেকর্ড আরও উন্নত করাটা লক্ষ্য, নাকি ভোটে দাঁড়ানো তাঁর নেশা? কেন গাঁটের কড়ি খরচা করে ভোটে দাঁড়ান ইলেকশন কিং? পদ্মরাজ জানিয়েছেন, তাঁর একটাই লক্ষ্য - সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, যে চাইলে কোনও সাধারণ মানুষও নির্বাচনে লড়তে পারেন। এটা জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার।
[আরও পড়ুন:লোকসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর পেতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে]












Click it and Unblock the Notifications