বিহারের পর এবার ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাল থেকে শুরু এসআইআর, তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও
পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাল থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন। আজ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাত, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরী, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে দেশব্যাপী এসআইআরের দ্বিতীয় দফা।

ফর্ম ছাপা ও ট্রেনিংয়ের প্রক্রিয়া চলবে কাল থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা ও এনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়া বা জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে নভেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৪ তারিখ পর্যন্ত। খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। কোনও আবেদন বা আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি অবধি। নোটিশ পর্যায় বা শুনানি ও নথি যাচাই চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি অবধি। ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এসআইআর হবে তার ভোটার তালিকাগুলি আজ রাত ১২টা থেকেই ফ্রিজ করে দেওয়া হবে।
ওই তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে সেই সমস্ত ভোটারের কাছে বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসাররা বিশেষ গণনা ফর্ম বা Unique Enumeration Form দেবেন। এই গণনা ফর্মগুলিতে বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত বিবরণ থাকবে। বিএলও-রা বর্তমান ভোটারদের মধ্যে ফর্ম বিতরণ শুরু করার পর, যাঁদের নাম গণনা ফর্মে আছে, তাঁরা সবাই মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন যে তাঁদের নাম ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কিনা।
যদি তাঁদের নাম তালিকায় থাকে, তবে তাঁদের কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না। যদি তাঁদের নাম না থাকে, কিন্তু তাঁদের বাবা-মায়ের নাম তালিকায় থাকে, তাহলেও তাঁদের কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না। ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এসআইআর-এর ভোটার তালিকাটি http://voters.eci.gov.in-এ সকলের দেখার জন্য উপলব্ধ থাকবে এবং সকলেই এটি মিলিয়ে নিতে পারবেন।
বিহারের মতো এ ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা বিএলওদের সঙ্গে একসঙ্গে থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে পারবেন। নাগরিকদের কাছেও সহযোগিতার আর্জি জানিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিহারে শুদ্ধ তালিকা তৈরি সম্ভব হয়েছে সকলের সহযোগিতা মেলায়। এই প্রক্রিয়া ভোটার তালিকায় বৈধ ভোটারদের রাখার জন্য এবং অবৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য।
জ্ঞানেশ কুমার বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার রিভিশন আবশ্যক। অনেকেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান ভোটার তালিকা শুদ্ধ না থাকার জন্য। ১৯৫১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে দেশে ৮ বার এসআইআর হয়েছে। শেষ হয়েছে ২১ বছর আগে। কেউ অন্যত্র চলে গিয়েছেন, কারও নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে, মৃতদের নাম রয়েছে বা বিদেশিদের নাম কোনওভাবে তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে, এই সমস্যাগুলি দূর করতেই এসআইআর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ২৪ জন ভোটার রয়েছেন। বুথের সংখ্যা আপাতত ৮০,৬৮১। রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট ১৮,১১৪। ইআরও বা এইআরও ৩৩৫৩, ডিইও ২৪ জন।












Click it and Unblock the Notifications