কাশ্মীরে এবার লেফটেন্যান্ট গভর্নর বনাম নির্বাচন কমিশন! নজিরবিহীন নোটিশ জারিতে চাঞ্চল্য উপত্যকায়
সাংবিধানিক পদে থাকা লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে নোটিশ পাঠাচ্ছে অপর একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন। এহেন নজিরবিহীন ঘটনা মনে হয় না আগে কখনও দেশ দেখেছে। তবে সেই ঘটনা এবার হল, এবং তাতে চমকে গেল গোটা দেশ। প্রসঙ্গত জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর জিসি মুর্মুকে নোটিশ পাঠাল জাতীয় নির্বাচনী কমিশন।

লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে লেফটেন্যান্ট গভর্নর জিসি মুর্মুকে সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে উপত্যকায় কবে নির্বাচন হবে। সেই প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বলেছিলেন, কাশ্মীর থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হলেই এখানে নির্বাচন সংগঠিত হবে। এই বয়ানেই না খুশ নির্বাচন কমিশন। আর তাই মুর্মুকে নোটিশও পাঠায় তারা।

মুর্মুকে নোটি নির্বাচন কমিশনের
এই বিষয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে পাঠানো নোটিশে নির্বাচন কমিশনের তরফে লেখা হয়, নির্বাচনের তারিখ ঠিক করার এক্তিয়ার একমাত্র কমিশনের রয়েছে। কমিশন ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য রাখলে তা সংবিধান বিরোধী হবে এবং তা ঠিক নয়।

গত বেশ কয়েক মাস বন্দি ছিলেন উপত্যকার রাজনীতিবিদরা
২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার হওযার পর থেকেই বন্দিদশা কাটাচ্ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। সেই বন্দিদশা থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান ফারুক আবদুল্লাহ। ১৩ মার্চ ফারুকের মুক্তির কয়েকদিন পরেই মুক্তি পান তাঁর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ। আর এই আবহে প্রশ্ন উঠতে থাকে কবে হবে নির্বাচন। তবে তার মধ্যেই দেশজুড়ে করোনা মহামারীর জেরে লকডাউন লাগু হয়।

রাজ্যের তকমা হারায় জম্মু ও কাশ্মীর
অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর মাধ্যমেই জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করার পর প্রথম সাংসদীয় অধিবেশনেই ৩৭০ ধারা সহ অনুচ্ছেদ ৩৫এ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর জম্মু ও কাশ্মীরকে পৃথক দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার বিলটিও পাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর থেকেই সেখানের নির্বাচন হওয়া বা রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীদের বাকরুদ্ধ করার বিরুদ্ধে সরব বিভিন্ন দল।












Click it and Unblock the Notifications