মুহূর্তে গায়ের ৫০ লক্ষ, শেষ সম্বল খুইয়ে আত্মঘাতী সস্ত্রীক কর্ণাটকের প্রৌঢ় দম্পতি!
সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পথ বেছে নিলেন ভারতের কর্নাটকের (Karnataka) এক বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশীরা ওই দম্পতির মৃতদেহ (Couple dies due to cyber fraud) খুঁজে পায়। তড়িঘড়ি স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে সেখানে এসে পৌঁছায় পুলিশ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের বেলাগাভি জেলায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৮২ বছর বয়সে দিওগজেরন সানতান নাযারেথ ও তাঁর ৭৯ বছর বয়সই স্ত্রী প্লাইভিয়ানা নাযারত বেলাগাভি জেলায় বাস করতেন। তাঁদের কোন নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন ছিল না। বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধ গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মঘাতী হন। এবং তাঁর স্ত্রী বিষ খেয়ে ফেলেন। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, প্রতারিত হয়ে ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ খুইয়েছিলেন তারা।

জানা গিয়েছে, প্রতারকরা দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চ এর কর্মকর্তা বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথোপকথন করেন। ভিডিও কলে বলা হয়, ওই দম্পতির মোবাইল ফোন নম্বর এবং পরিচয় পত্র একটি অপরাধ মূলক কাজে ব্যবহৃত করা হয়েছে। তাই এই মামলা থেকে মুক্তি পেতে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। বয়স্ক দম্পতি প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে প্রথমে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দেয়।
কিন্তু এরপর ক্রমাগত ফোনে হুমকি আসতে থাকে। তাদের বলা হয়, ধাপে ধাপে দিতে হবে আরও বড় অংকের টাকা। এভাবেই প্রতারিত হয়ে মোট ৫০ লক্ষ টাকা খুইয়ে বসেন। মৃতদেহের কাছ থেকে দুই পাতার একটি লিখিত চিঠি পাওয়া গিয়েছে। যা নাযারেথ বাবুই লিখেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। সুইসাইড নোটে প্রতারকদের হুমকির কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন তাঁরা।
বেলাগাভির পুলিশ সুপার ভীমাশঙ্কর গুলেদ জানান, ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে নাযারেথ বাবুর মোবাইল ফোন, ছুরি এবং সুইসাইড নোটটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার এখনও সুরাহা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তবুও কি হুঁশ ফিরছে না? এই প্রশ্ন থেকেই যায়।












Click it and Unblock the Notifications