কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারে ৮ বিরোধী দলের মোদীকে চিঠি, তালিকায় রয়েছেন কারা
আম আদমি পার্টির নেতা মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতার নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে আটটি বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে এককাট্টা হল দেশের আট বিরোধী দল। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন তারা। যে আট দল প্রধানমন্ত্রীর শরাণাপন্ন হয়েছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সেখানে কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে নেই কংগ্রেস।

ইডি ও সিবিআই তৎপরতা বাড়ায়
সম্প্রতি আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলায় একের পর দুর্নীতি সমনে আসছে। ইডি ও সিবিআই তৎপরতা বাড়ছে শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে হেভিওয়েট অনুব্রত মণ্ডল প্রমুখ।

আটটি বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি
আম আদমি পার্টির নেতা মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতার নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে আটটি বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্রীকে কে চন্দ্রশেখর রাও, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল রয়েছেন এই তালিকায়।

বিরোধীরা স্বাক্ষরিত চিঠি দিলেও কংগ্রেস দূরে থেকেছে
বিরোধী দলের নেতারা তাদের স্বাক্ষরিত চিঠি দিলেও কংগ্রেস দূরে থেকেছে। অন্য যারা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা হলেন- ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।

ইডি গান্ধীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে, তবু কংগ্রেস দূরে
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি গান্ধীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে। ইয়াং ইন্ডিয়ার অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড নামক সংস্থাটি ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা চালাত। তার অধিকার নিয়ে অর্থ তছরূপ হয়েছে বলে অভিযোগ। সেখানে রাহুল গান্ধী এবং তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী উভয়কেই গত বছর ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তারপরও কংগ্রেস দূরে থাকল।

বিরোধী দলগুলির উপর ইডি-সিবিআইয়ের আক্রমণ
আট বিরোধী দল চিঠিতে লিখেছে, "আমরা আশা করি আপনি একমত হবেন যে, ভারত এখনও একটি গণতান্ত্রিক দেশ৷ বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নির্লজ্জ অপব্যবহার থেকে বোঝা যায়, আমরা গণতন্ত্র থেকে স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হয়েছি। যেভাবে বিরোধী দলগুলির উপর ইডি-সিবিআইয়ের আক্রমণ নেমে আসছে, তা নিন্দনীয়।

বিজেপিতে যোগদানকারী বিরোধী রাজনীতিবিদদের ছাড়
অভিযোগ, আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়াকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠিতে বলেছেন সেই কথা। মোদীকে লেখা চিঠিতে এমন কথাও বলা হয়েছে যে, ২০১৪ সাল থেকে আপনার প্রশাসনের অধীনে তদন্ত সংস্থাগুলি বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। মজার বিষয় হল বিজেপিতে যোগদানকারী বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থাগুলি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে ছাড় পেয়েছেন
এই বিষয়ে আট বিরোধী দলের নয় নেতার স্বাক্ষরিত চিঠিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা কংগ্রেসে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সিবিআই এবং ইডির স্ক্যানারে ছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আর অগ্রগতি হয়নি সেই মামলার। একইভাবে নারদা স্টিং অপারেশন মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও ইডি এবং সিবিআই তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল বিজেপিতে যাওয়ার পর।

আর যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন চিঠিতে
আবার ২০১৪ সাল থেকে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে বা গ্রেফতার করা হয়েছেসেই তালিকা বেশ দীর্ঘ। আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, সমাজবাদী পার্টির আজম খান, নবাব মালিক, এনসিপির অনিল দেশমুখ, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ রয়েছেন এই তালিকায়। দিল্লির আবগানি নীতি প্রণয়নে দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications