৭০ বছরের খরা কাটিয়ে দেশে ফিরছে চিতা, স্বাগত জানাতে নামবিয়ায় পাঠানো হল বিশেষ বিমান

৭০ বছরের খরা কাটিয়ে দেশে ফিরছে চিতা, স্বাগত জানাতে নামবিয়ায় পাঠানো হল বিশেষ বিমান

১৯৫০ সালের পর ভারতের জঙ্গলে প্রথমবারের জন্য চিতা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নামবিয়া থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর চিতা মধ্যপ্রদেশে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে। এই চিতাকে নামবিয়া থেকে আনার জন্য বি-৭৪৭ এর একটি বৃহৎ বিমান ইতিমধ্যে পৌঁচেছে। নামবিয়া থেকে ভারতে মোট আটটি চিতা আনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

৭০ বছরের খরা কাটিয়ে দেশে ফিরছে চিতা, স্বাগত জানাতে নামবিয়ায় পাঠানো হল বিশেষ বিমান

জানা গিয়েছে, এই বৃহৎ বিমানটি ইতিমধ্যে নামবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোয়েকের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। চিতা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের বৃহত্তম আন্তঃমহাদেশীয় প্রকল্প। আটটি চিতা আনতে নামবিয়ায় একটি বিশেষ বিমান অবতরণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিমানের সামনে বাঘের মুখ আঁকা রয়েছে। বিমানটির গুরুত্ব বোঝাতে বাঘের মুখ আঁকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নামবিয়ায় ভারতীয় হাইকিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চিতা স্থানান্তরনের ক্ষেত্রে ভারত একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই সাহসী ভূমিকার জন্য ভারতকে শুভেচ্ছা।

এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে চিতা নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বৃহৎ বিমানটিকে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয়েছে। সাভানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও এশিয়ার চিতা পরিবহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েই এই বিমানটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখানে একাধিক চিতা নিয়ে যাওয়ার যেমন সুবিধা রয়েছে। তেমনি পশু চিকিৎসকরাও এই বিমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। এই বিমানের অভ্যন্তরে বিশেষ খাঁচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে স্বাচ্ছন্দে বিমানের অভ্যন্তরে চিতাগুলোকে এক মহাদেশ থেকে অন্য নিয়ে যেতে সুবিধা হয়।

জানা গিয়েছে, নামবিয়া থেকে বিমানটি প্রথমে জয়পুরে অবতরণ করবে। তারপরে চিতাগুলিকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার কুনো জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জন্মদিনে চিতাদের প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন। তারপরেই আফ্রিকার এই চিতাগুলো সাধারণ মানুষের দেখার সম্ভাবনা তৈরি হবে। গত কয়েক দশক ধরে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যেকবার নানা কারণে এই প্রকল্প স্থগিত হয়ে গিয়েছে। অবশেষে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

ভারতীয় বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশে আফ্রিকান চিতা পরিচিতি প্রকল্প প্রথম ২০০৯ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। গত বছর নভেম্বরে জাতীয় উদ্যানে চিতা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে করোনা মহামারী, ধারাবাহিকভাহে লকডাউনের কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। শিকারের জন্য ভারত থেকে চিতার অবলুপ্তি ঘটে।

মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় পার্কে চিতাদের বাসস্থানের জন্য সর্বোত্তম জায়গা হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই পার্কটিতে কৃষ্ণসার হরিণ ও চিঙ্কারা হরিণের সংখ্যা বেশ ভালো। এরফলে চিতার খাদ্যের অভাব এখানে হবে না বলে বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে মহারাজা রামানুজ প্রতাপ সিং দেও ভারতে চিতা প্রজাতির শেষ প্রাণীটিকে শিকার করে। ১৯৫২ সালে এশিয়াটিকের তরফে জানানো হয়, ভারত থেকে চিতার অবলুপ্তি হয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+