আইনগতভাবে টেকসই নয়, এসআইআর মামলায় মমতার ব্যক্তিগত হাজিরা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন
নির্বাচনী তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত হাজিরা এবার আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। শীর্ষ আদালতে দায়ের হওয়া এক আবেদনে দাবি করা হয়েছে, একজন কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি আদালতে উপস্থিত হওয়া সংবিধানগতভাবে অনুচিত ও আইনগতভাবে টেকসই নয়।
এই আবেদনটি দায়ের করেছেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল। তাঁর বক্তব্য, উচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত হাজিরা বিচার প্রক্রিয়ায় 'প্রতীকী চাপ' সৃষ্টি করতে পারে, যা ন্যায়বিচারের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি রাখে।

উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কার্যরত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শুনানিতে তিনি পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চান ও অভিযোগ করেন, এই সংশোধনী প্রক্রিয়া গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে ও রাজ্যবাসীকে অন্যায়ভাবে নিশানা করা হচ্ছে।
তবে নতুন আবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলা কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং সরাসরি রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল রাজ্যের নিযুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমেই আদালতে বক্তব্য পেশ করা, ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়ে।
আবেদনকারীর যুক্তি, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক সম্পর্কের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই ধরনের ক্ষেত্রে উচ্চ পদাধিকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে ও সাংবিধানিক প্রশ্নকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওভাবেই নিজেকে 'ব্যক্তিগত ক্ষমতায়' আদালতে উপস্থিত দাবি করতে পারেন না। রাজ্যের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ইতিমধ্যেই নিযুক্ত আইনজীবীরা রয়েছেন, সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত হাজিরার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
এছাড়াও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই মামলায় সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে আবেদন করার অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদৌ ছিল কি না, কারণ এতে তাঁর কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক আবেদন, যার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনও রয়েছে, শুনানি করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে, ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয় ও সাধারণ মানুষকে কোনওভাবেই হয়রানির মুখে পড়তে না হয়।












Click it and Unblock the Notifications